অবৈধ সম্পদের মামলায় গ্রেপ্তার জিয়াউল আহসান
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন।
‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম।
এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট গভীর রাতে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দেখানো হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায়ও।
গত ২৩ জানুয়ারি ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তার স্ত্রী নুসরাত জাহানকেও আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান নিজ নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।এ ছাড়া গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রান্সজেকশন-২০১৮ ও ২০২০ সালের এফইপিডি সার্কুলার-৬ অনুযায়ী বর্তমান অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেন। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করে স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতা ও যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেন।
এ ছাড়া নিজ নামে ৮টি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন জিয়াউল আহসান। একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে এই কাজে নিজের পদ ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
