ভারতে রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর যন্তর মন্তর এলাকা।
সোমবারের (২০ জুলাই) এই বিক্ষোভ একপর্যায়ে মারাত্মক সহিংসতায় রূপ নিলে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার ভারতের সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তীব্র বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার আন্দোলনকারী যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। সংসদমুখী রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবিধান ক্লাব, প্যাটেল চৌক, শাস্ত্রী ভবন, আরবিআই ভবন এবং সংসদ মার্গ এলাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
আন্দোলনকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড হামলা করেন, পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ করেছে দিল্লি পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বারবার নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা তা অমান্য করে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রদর্শন করে। ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টার পাশাপাশি তারা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি পাথর ও শক্ত বস্তু ছুড়তে থাকে।
সহিংসতার ধরন তুলে ধরে পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় বিশেষ পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিপিসি) এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও হামলায় গুরুতর আহত হন।
অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, ‘সংসদ চলো’ মিছিলে দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে, যার ফলে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কেবল পুলিশের ওপরই চড়াও হয়নি, বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে সরকারি সম্পত্তিতেও। আনুমানিক ১৫ থেকে ২০টি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। দাঙ্গা হাঙ্গামা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে নতুন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস)-র সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে এই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত সব অভিযুক্তকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে আজ মঙ্গলবারও (২১ জুলাই) টানা দ্বিতীয় দিন সংসদ অভিযান কর্মসূচি চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সোমবার গভীর রাতে দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের বিক্ষোভস্থল ঘুরে আন্দোলনকারী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি বলেন, “আমরা আবারো মিছিল করব। যন্তর মন্তরের এই বিক্ষোভস্থল ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিল্পী ও সুশীল সমাজের একাংশের সমর্থন লাভ করে।
বর্তমানে নিটের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিসহ তিন দাবিতে আন্দোলন করছে ককরোচ জনতা পার্টি।
