Home রাজনীতিভোটের মাঠে তরুণ মুখ

ভোটের মাঠে তরুণ মুখ

by The Desh Bangla
০ comments

নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠে এবার চোখে পড়ছে এক ঝাঁক নতুন মুখ। পোস্টার, টকশো, পডকাস্ট কিংবা সামাজিক মাধ্যমÑ সবখানেই তরুণ রাজনীতিক, বিশ্লেষক ও বক্তাদের উপস্থিতি স্পষ্ট। বিএনপি, এনসিপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধারার বাম দল, সবখানেই নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রভাবিত করতে তারা রাজনীতিকে ভিন্নভাবে দেখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এই নতুন মুখগুলো কি সত্যিই নতুন রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি পুরনো রাজনীতিই ফিরে আসছে নতুন মোড়কে?

হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সারজিস আলম, নাসীর উদ্দীন পাটোয়ারী, তাসনিম জারা, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, সাইয়েদ আল নোমান, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, চৌধুরী নায়াব ইউসুফ প্রমুখ এবার প্রার্থী। তাদের বয়স তুলনামূলক কম, বক্তব্যও আধুনিক। কিন্তু রাজনীতির কাঠামো কতটা বদলাচ্ছেÑ সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরার পর বিএনপির রাজনীতিতে পরিবর্তনের সুর শোনা যাচ্ছে। মিছিল-মিটিং করে মানুষের হয়রানি না করা, প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার মতো বার্তা সামনে আনা হচ্ছে। সভা-সেমিনারে যেমন নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি বাড়ছে, তেমনি মনোনয়নেও এসেছে তরুণদের নাম। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কেবল নতুন মুখ দিয়ে নতুন রাজনীতি হয় না। আসনের ভাগ-বাটোয়ারা আর জোটের সমীকরণে আটকে থাকলে বদলের প্রতিশ্রুতি বাস্তব রূপ পায় না। তরুণ প্রার্থীরাও জানেন, পুরনো রাজনীতির ধারা দিয়ে ভোটার টানা কঠিন, তবু তারা স্পষ্ট কোনো বিকল্প কাঠামো তুলে ধরতে পারছেন না।

এক সময় রাজপথে কোটা সংস্কারের দাবিতে সরব হওয়া তরুণদের একটি অংশ এখন সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয়। ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এসব নেতার প্রার্থিতা দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ একে আন্দোলনের স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিণতি বলছেন। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া অনেকেই তখন নিজেদের ‘অরাজনৈতিক’ দাবি করলেও সময়ের ব্যবধানে কেউ দল গঠন করেছেন, কেউ আবার প্রচলিত দলে যুক্ত হয়ে নির্বাচনে নেমেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলন থেকে নির্বাচনে আসা অস্বাভাবিক নয়। ইতিহাসে বহু রাজনৈতিক নেতৃত্বই গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে। অপেক্ষাকৃত তরুণ দল এনসিপির ঘোষিত

২৭ জন প্রার্থীর সবাই তরুণ এবং নতুন রাজনীতির কথা বলেই সামনে এসেছেন।

বিএনপির ক্ষেত্রে নতুন মুখের বড় অংশ এসেছেন উত্তরাধিকার সূত্রে। এক সময় এম সাইফুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাদেক হোসেন খোকা কিংবা আ স ম হান্নান শাহর মতো নেতারা দলটির মুখ ছিলেন। এখন রাজনীতিতে এসেছেন তাদের সন্তানরা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাইয়েদ আল নোমান, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নেই রুমিন ফারহানা, আছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। জোটগত সমঝোতার কারণে তিনি মনোনয়ন পাননি। ডা. তাসনিম জারাও এনসিপি ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নূর পটুয়াখালী থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন। গণসংহতি আন্দোলন ও বাসদ (মার্কসবাদী) তরুণ ও নারী প্রার্থী বাড়ানোর দাবি করছে। তরুণদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা চাপ তৈরি করছে কিনাÑ এমন প্রশ্নে নুরুল হক নূর বলেন, দুই ধরনের চাপ আছে। একদিকে মানুষের পরিবর্তনের প্রত্যাশা, অন্যদিকে পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের চাপ। কালো টাকার আধিপত্য ও মানুষের মানসিকতা, সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জ বড়।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, রাজনীতি এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আর সাংবাদিক মাসুদ কামালের ভাষায়Ñ মুখ বদলেছে, রাজনীতি বদলায়নি। সব মিলিয়ে নির্বাচনের মাঠে তরুণদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও নতুন রাজনীতির প্রশ্নটি এখনও রয়ে গেছে উত্তরহীন।

You may also like

Leave a Comment