মেক্সিকোর জালিস্কো স্টেডিয়ামে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭০ আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ব্রাজিল সেখানে প্রথম রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলে। পরে মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ইতালিকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করে পেলের দল। কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ডের সম্মানে জালিস্কোর সামনে একটি বিশাল ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা শহরে অবস্থিত স্টেডিয়ামটির সামনে পেলের ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তার অসাধারণ কৃতিত্বকে সম্মান জানাতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। এ ছাড়া ওই ভেন্যুর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্রাজিল এবং কিংবদন্তি পেলের স্মৃতি। ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তিনি, যার একটির আয়োজক ছিল মেক্সিকো।
জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পাবলো লেমুস বলেন, ‘এখানে খেলেছেন এবং দুর্দান্ত একটি গোল করেছেন– এমন একজন মহান খেলোয়াড়ের এই বিশাল ভাস্কর্য জালিস্কোর মানুষ এবং সব দর্শনার্থীর জন্য দারুণ এক উপহার। পেলে গুয়াদালাহারাকে ভালোবাসতেন, আর ব্রাজিল জাতীয় দলও এই শহরের প্রেমে পড়েছিল, কারণ ১৯৭০ সালে মেক্সিকোর দর্শকরা তাদের সর্বোচ্চ সমর্থন দেখায়।’
পেলের ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে জালিস্কো স্টেডিয়ামের বাইরে ‘প্লাজা ব্রাজিল’ নামের একটি উন্মুক্ত চত্বরে, যার উচ্চতা ৩১ ফুট বা ৯ দশমিক ৫ মিটার। লেমুসের প্রত্যাশা– ‘জালিস্কো স্টেডিয়ামে আসা ব্যক্তিরা এখানে থেমে ছবি তুলবেন। বিশেষ করে এটি যেহেতু পেলের মতো একজন ফুটবল তারকার ভাস্কর্য, তাই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনে পরিণত হবে। বিশ্বকাপের জন্য এটি একটি অসাধারণ উপহার।’
যদিও জালিস্কো স্টেডিয়ামে এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ রাখা হয়নি। এমনকি ব্রাজিলের কোনো ম্যাচও হবে না মেক্সিকোয়। তবে গুয়াদালাহারা স্টেডিয়াম বিশ্বকাপের চারটি প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ আয়োজন করবে। ১২ জুন দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক প্রজাতন্ত্র, ১৮ জুন স্বাগতিক মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া, ২৩ জুন কলম্বিয়া বনাম ডিআর কঙ্গো এবং ২৬ জুন উরুগুয়ে বনাম স্পেন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
