২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রফি ছুঁয়ে দেখার পর, ২০২২ সালে কাতারের মাটিতে লিওনেল মেসির হাতে ওঠে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফি। বল পায়ে জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট এনে দেন এই মহাতারকা।
বিশ্বকাপের পর দীর্ঘ সময় এক অপার্থিব ঘোরের মধ্যে কাটলেও আলবিসেলেস্তেদের এই অধিনায়ক ভুলে যাননি নেপথ্যের নায়কদের অবদান, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে খেলোয়াড়েরা মাঠের ভেতর নিজেদের সেরাটা দিতে পেরেছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে মাঠের বাইরের মেসির এক অনন্য মহানুভবতার গল্প। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর পাওয়া নিজের পুরো বোনাসের অর্থ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক ফিটনেস কোচ জেরার্ডো সালোঁরিও সম্প্রতি মেসির এই অনন্য ত্যাগের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। রেডিও লা রেড-এএম ৯১০-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সালোঁরিও জানান, কাতারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দলের প্রতিটি সদস্যই মোটা অঙ্কের নগদ বোনাস পেয়েছিলেন। তবে লিওনেল মেসি তাঁর ভাগের সেই বিপুল পরিমাণ বোনাসের টাকা নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখেননি। বরং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ভবনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও রাঁধুনি থেকে শুরু করে সাধারণ স্তরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে সমান ভাগে সেই পুরো অর্থ বণ্টন করে দিয়েছেন। মেসি সবাইকে সমান চোখে দেখেন এবং নেপথ্যের এই কর্মীদের অবদানকে সবসময় মূল্যায়ন করেন।
মেসির এমন জনহিতকর ও মানবিক কাজের বিবরণ দিতে গিয়ে সাবেক এই ফিটনেস কোচ আরও বলেন, মেসি সবসময় মানুষকে সাহায্য করতে ভালোবাসে এবং এটি তাঁর পুরনো অভ্যাস। ২০০৬ সাল থেকেই মেসি এবং দলের আরও কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় মিলে ফেডারেশনের জাতীয় দলের ভবন সংস্কারের কাজে আর্থিক সহায়তা করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেসি একাই প্রায় এই ধরনের সব দায়িত্ব ও উন্নয়নমূলক কাজ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
মাঠের কর্মীদের বোনাস দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে দলের সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদেরও রাজকীয় উপহার দিয়েছিলেন মেসি। কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা জেতার পর দলের প্রতিটি খেলোয়াড় এবং সব কোচিং স্টাফকে একটি করে বিশেষ আইফোন ১৪ প্রো উপহার দেন তিনি, যার ব্যাক কাভার বা কেসটি ছিল ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি। সেই সোনার কেসের ওপর প্রতিটি খেলোয়াড়ের নাম, তাঁদের নিজ নিজ জার্সি নম্বর এবং আর্জেন্টিনা দলের অফিসিয়াল ক্রেস্টের সঙ্গে তিন তারকা খোদাই করা ছিল, যা মেসির বড় মনের পরিচয় দেয়।
