জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার নিজের ইশতেহারের সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি বলেছেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করেনি সরকার। গুম-খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতি বন্ধে স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তা না করে উল্টো বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছেন ক্ষমতাসীনরা।’
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহী আলিয়া মাদরাসা মাঠে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে এসব কথা বলেছেন তিনি।
বিএনপির উদ্দেশে জামায়াত আমির বলছিলেন, ‘আপনারাই বলেছিলেন দেশকে মেরামত করতে হবে, সংবিধানের সংস্কার করতে হবে। এখন বলছেন সংস্কার কী জিনিস তা বুঝেন না। তাহলে কি না বুঝেই দিয়েছিলেন এসব প্রতিশ্রুতি?’
ক্ষমতাসীনরা জুলাই আন্দোলনের শক্তিকে অবমূল্যায়ন করছেন বলে মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বললেন, ‘জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সংসদ থেকে রাজপথে ছড়িয়ে পড়বে আন্দোলন। জনগণের রায় অগ্রাহ্য করলে অতীতের স্বৈরশাসকদের ন্যায় পতন হবে বর্তমান সরকারেরও।’
বিএনপিকে সতর্ক করে জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দেন, ‘যে পথে অতীতে স্বৈরাচার হেঁটেছিল, একই পথে হাঁটছেন আপনারাও। দেশের সর্বত্র চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মহাউৎসব চলছে এখন। ক্ষমতাসীনদের কেউই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মানুষ এখন বলতে শুরু করেছে, মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সবাই চাঁদাবাজির সাথে জড়িত। না হলে কেন বন্ধ হচ্ছে না এসব?’
বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ও দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন জামায়াত আমির। তার দাবি, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এর ফলে ধ্বংসের মুখে পড়ছে শিক্ষা ও প্রশাসন ব্যবস্থা। প্রশাসনে যদি দক্ষ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষদের সরিয়ে দলকানা লোক বসানো হয়, তাহলে এর খেসারত শুধু জাতিকেই নয়, দিতে হবে সরকারকেও।’
সমাবেশে তিস্তা ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়েও জোরালো বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। বলেছেন, ‘ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা এখন শুকনো মৌসুমে প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয় এবং বর্ষায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ দুর্ভোগ। সরকারকে দ্রুত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে এবং গ্রহণ করতে হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনাও।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও উত্তরাঞ্চল পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিবির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা জালালুদ্দিন আহমদ, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির অধ্যাপক সিরাজুল হক, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ
