আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। যাত্রী ও যানবাহনের নির্বিঘ্ন পারাপার নিশ্চিত করতে এবার ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ঘাট ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে রো-রো, ইউটিলিটি ও কে-টাইপ ফেরিসহ বহরে মোট ১৭টি ফেরি সার্বক্ষণিক চলাচল করবে। সচল রাখা হয়েছে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট। বিশেষ করে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও যানবাহনের নিরাপদ ও দ্রুত পারাপার নিশ্চিত করতে এবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরি পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ফেরিতে ওঠার জন্য আলাদা লেন এবং লঞ্চঘাটে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঈদযাত্রা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে বিআইডব্লিউটিসি ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত মাইকিং করে যাত্রীদের সচেতন করা হচ্ছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে যাত্রী নিরাপত্তায় এবার ২০টি এবং ১২টি লঞ্চ চলাচল করবে, যেখানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও বয়া রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতেও কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি চালাবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দৌলতদিয়া ঘাটে নৌপুলিশের ৮৪ সদস্যসহ জেলা পুলিশের বিপুল সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। ফরিদপুর অঞ্চলের নৌপুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘাটকেন্দ্রিক পৃথক টহল টিম ও কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। এছাড়া ঈদে পশুবাহী ট্রাক যেন পথে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয় এবং কোনো এলাকায় চাঁদাবাজি বা ছিনতাই না ঘটে, সেজন্য ডিবি টিম ও জেলা পুলিশের স্ট্রাইকিং মোবাইল পার্টি মাঠে সক্রিয় থাকবে। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ নিশ্চিত করেছেন যে, মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাক আটকানো হবে না এবং বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
ঈদযাত্রার প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান জানিয়েছেন, ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত ঈদে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পন্টুনের ওপর ইজিবাইক বা অটোরিকশা ওঠা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে এবার সারা দেশের বাস টার্মিনাল ও সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। গতবারের ২৫টির পরিবর্তে এবারের ঈদে সারা দেশে ৬৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে।
এদিকে স্থানীয় যাত্রী ও যানবাহন চালকরা ঘাট ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও পন্টুনের ওপর অবৈধ যান চলাচলের বিষয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রত্যাশা করেছেন। সব মিলিয়ে সমন্বিত এই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
