মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা মোকাবিলায় চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ বা সারফেস ড্রোন মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন প্রথমবারের মতো কোনো সক্রিয় অভিযানে এ ধরনের নৌযান ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ হিসেবে এই ড্রোন নৌযানগুলো বর্তমানে কৌশলগত জলসীমায় টহল দিচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক-সি’-এর তৈরি এই বিশেষ নৌযানগুলো ‘গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনেসান্স ক্রাফট’ বা ‘জিএআরসি’ (GARC) নামে পরিচিত। প্রায় পাঁচ মিটার লম্বা এই ড্রোনগুলো মূলত নজরদারি এবং প্রয়োজনে আত্মঘাতী হামলার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মটি ইতিমধ্যে ২ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করে ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় সফলভাবে পানিতে অবস্থান করেছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন স্পিডবোটের কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক মাসে পারস্য উপসাগরে তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় ইরান অন্তত দুবার ‘সি ড্রোন’ ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও এখন মনুষ্যবাহী জাহাজের সস্তা ও দ্রুততর বিকল্প হিসেবে এই চালকবিহীন নৌবহরকে যুদ্ধক্ষেত্রে নামিয়েছে। তবে আক্রমণাত্মক কোনো হামলায় এখন পর্যন্ত এগুলো ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পেন্টাগন স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দাবি করা হলেও ‘জিএআরসি’ প্রজেক্টটি বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছে। গত বছর রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছিল, পরীক্ষামূলক চলাচলের সময় এই ড্রোনগুলো অন্য নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো সমস্যায় পড়েছিল। এমনকি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ট্রায়ালের সময় একটি ড্রোন অচল হয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী একে একটি ‘উদীয়মান সক্ষমতা’ হিসেবে দেখছে, যা আঞ্চলিক জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের নৌ-শক্তি মোকাবিলায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব খর্ব করতে স্বয়ংক্রিয় নৌবহর তৈরির চেষ্টা করছে। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপটি মূলত সেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই একটি অংশ। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক-সি’ এই অভিযান নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও, পঞ্চম নৌবহর এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করছে।
