মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত এই সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্বাধীনতার এই গৌরবগাথা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা অব্যাহত থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং জরুরি একটি বিষয়।
ইতিহাস চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতকে সম্পূর্ণ ভুলে যাওয়া যেমন অন্ধত্বের শামিল, তেমনি কেবল অতীত নিয়ে পড়ে থাকাও অগ্রগতির পথে বাধা হতে পারে। তিনি আক্ষেপ করে জানান যে, নিকট অতীতে ইতিহাস নিয়ে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক চর্চা হয়েছে, যা দেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার পথকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তার মতে, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে।
বক্তব্যের একটি বড় অংশে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে পরিকল্পিতভাবে শহীদ জিয়ার অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে, অথচ স্বাধীনতা সংগ্রামে তার ভূমিকা ছিল অনিবার্য। প্রমাণ হিসেবে তিনি ১৯৭২ ও ১৯৭৪ সালে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত জিয়াউর রহমানের প্রবন্ধগুলোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সময়ে সেই লেখাগুলো নিয়ে কেউ কোনো আপত্তি তোলেনি, যা প্রমাণ করে যে স্বাধীনতার জন্য জিয়াউর রহমানের মানসিক প্রস্তুতি ও অবদান সর্বজনস্বীকৃত ছিল।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। বর্তমান সরকারকে একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে ভালো থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনই এবারের স্বাধীনতা দিবসের মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে তিনি তার বক্তব্যে জোর দেন।
