Home অর্থনীতিটাকা তোলার চাপ নেই, বাড়ছে আমানত

টাকা তোলার চাপ নেই, বাড়ছে আমানত

by The Desh Bangla
০ comments

একীভূত ৫ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়ার পর প্রথম দুই দিনে গ্রাহকদের মধ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। বরং এ সময়ে ব্যাংকটি থেকে ১০৭ কোটি টাকা উত্তোলনের বিপরীতে ৪৪ কোটি টাকা নতুন আমানত এসেছে, যা গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। সেই সঙ্গে একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর অতীত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক অডিট করা হবে এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এসব কথা জানান। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আইয়ুব মিয়া এবং পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর জানান, পূর্ণাঙ্গ লেনদেন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রথম দুই দিনে আমানতকারীরা ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা তুলেছেন। এর বিপরীতে জমা হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা। মোট ১৩ হাজার ৩১৪ জন গ্রাহক এ পরিমাণ টাকা

তুলেছেন। তিনি বলেন, অনেক শাখায় উত্তোলনের চেয়ে জমার পরিমাণ বেশি ছিল, যা নতুন ব্যাংকটির প্রতি জন-আস্থার স্পষ্ট প্রমাণ। গ্রাহকের কোনো চিন্তা করতে হবে না। আগামীতেও ভয়ের কারণ দেখছি না। কেননা ৩৫ হাজার কোটি টাকা পেইড-আপ ক্যাপিটাল নিয়ে গঠিত এটি দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। ফলে গ্রাহকদের আমানত পুরোপুরি নিরাপদ রয়েছে।

তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি তোলা হয়েছে এক্সিম ব্যাংক থেকে; ৬৬ কোটি টাকা। এ ব্যাংক থেকে ৬ হাজার ২৬৫ জন টাকা উত্তোলন করেন। সবচেয়ে বেশি জমাও হয় এ ব্যাংকে। এর পরিমাণ ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এক্সিম ব্যাংকের পর ইউনিয়ন ব্যাংকে ১৫ কোটি ২৪ লাখ, এসআইবিএলে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামীতে ৪৮ লাখ ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে জমা হয় ৬২ লাখ টাকা।

গভর্নর জানান, ব্যাংকটির প্রায় ৯৫ শতাংশ গ্রাহকের আমানত দুই লাখ টাকার নিচে, যাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক লেনদেনে কোনো বাধা নেই। বড় আমানতকারীদের জন্য সাময়িক কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও, তারা তাদের জমার বিপরীতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে নতুন করে যারা টাকা জমা দিচ্ছেন, তারা যে কোনো সময় সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর ১৬ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে যারা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের চাকরি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। তবে যেসব কর্মকর্তা ঋণ অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ বা ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আইয়ুব মিয়া বলেন, স্কিম ঘোষণা হয়েছে। সেই অনুযায়ী লেনদেন চলছে। ব্যাংকের কোনো জায়গায় টাকা উত্তোলনের চেয়ে জমা বেশি হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে ব্যাংকের এমডি নিয়োগ হবে এবং ১৯ জানুয়ারি নতুন ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।

উল্লেখ্য, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়।

You may also like

Leave a Comment