হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৬৪। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে ২১৬ শিশুর মৃত্যু হলো। এ সময়ে নিশ্চিত হামে ৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোববার (২৬ এপ্রিল) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে এই ৮ শিশুর মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৮ জনে। এর মধ্যে চার হাজার ৬০৩ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ২১ হাজার ৪৩৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর ১৭ হাজার ৯৫৫ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৩ জন মারা গেছেন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২১৬ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে এক হাজার ৪২১ জন সন্দেহভাজন হামরোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিশু। হাসপাতালগুলোতে ক্রমাগত রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শিশুদের জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ৫৮ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ শিশুর শরীরে। এই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২০ হাজার ৪৭৫ শিশু এবং এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৭ হাজার ৮১ শিশু।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৬০ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
