মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করেছেন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত পদত্যাগপত্রে গ্যাবার্ড জানান, তার স্বামী সম্প্রতি বিরল ধরনের হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিবারের পাশে থাকতে এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে গ্যাবার্ড লেখেন, আমার ওপর আপনার রাখা আস্থার জন্য এবং গত দেড় বছর ধরে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগের জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে গ্যাবার্ডের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, দুর্ভাগ্যবশত, অসাধারণ কাজ করার পর তুলসি গ্যাবার্ড ৩০ জুন প্রশাসন ছাড়ছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, তুলসি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা তাকে মিস করব।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রিন্সিপাল ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যারন লুকাস আপাতত ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গ্যাবার্ড ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট দলের হয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়েও অংশ নেন।
হাওয়াই ন্যাশনাল গার্ডের সাবেক সদস্য হিসেবে তিনি ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযানে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তার মধ্যে যুদ্ধ ও বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপবিরোধী অবস্থান তৈরি হয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
পরবর্তীতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে সরে এসে তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন জানান। বিদেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ কমানোর প্রতিশ্রুতিকে তিনি এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
মিশিগানের ডেট্রয়েট শহরে ট্রাম্পের এক নির্বাচনী সমাবেশে গ্যাবার্ড বলেছিলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক সংঘাতের মুখোমুখি করেছে এবং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
তবে ভেনিজুয়েলা ও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা নিয়ে গ্যাবার্ডের আগের অবস্থানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতিগত পার্থক্য ছিল। পরে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ে ইরানবিষয়ক ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন করেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য ছিল, কোনটি আসন্ন হুমকি এবং কোনটি নয়, তা নির্ধারণের দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের।
