টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) বিকেল থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে এই সতর্কবার্তা প্রচার করছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক এবং চেয়ারম্যানদের নিজ নিজ এলাকায় মাইকিং করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত ৪ জুলাই সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (৮৮ মি.মি.-এর বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।
টানা এই বৃষ্টিপাতের কারণে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস বা পাহাড় ধসের মারাত্মক আশঙ্কা রয়েছে। তাই যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ও হতাহত এড়াতে যারা পাহাড়ের পাদদেশে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন, তাদেরকে অতি দ্রুত নিরাপদ স্থান বা আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও উৎকণ্ঠা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বৃষ্টিপাত এভাবে অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় পাহাড় ধসের মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল হক জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। যেকোনো দুর্যোগ এড়াতে বৃষ্টির এই সময়টাতে সবাইকে সর্বোচ্চ সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
