পারমাণবিক চুক্তি না করা পর্যন্ত ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ কে সাক্ষাৎদের দেন ট্রাম্প। সেখানেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে বোমা হামলার চেয়ে এই অবরোধ বেশি কার্যকর হিসেবে প্রমাণ হচ্ছে। অবরোধের কারণে ইরানের ‘দমবন্ধ’ হয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরানই এখন চুক্তির জন্য ব্যাকুল হয়ে গেছে।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, যদি ইরান তাদের তেল রপ্তানি করতে না পারে তাহলে তাদের জ্বালানি অবকাঠামো বিস্ফোরিত হবে।
এদিকে সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান যদি তাদের তেল বহির্বিশ্বে না পাঠাতে পারে তাহলে আগামী ২০ থেকে ২২ দিন পর তাদের তেল ডিপোগুলো উপচে পড়বে।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট।
এদিন মার্কিন পার্লামেন্টের সশস্ত্রবাহিনী সার্ভিসেস কমিটির কাছে এ খরচের কথা তুলে ধরেন তিনি। জুলস হার্স্ট বলেন, বেশিরভাগ অর্থই খরচ হয়েছে অস্ত্রের পেছনে।
গত ২৮ এপ্রিল দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর টানা ৪০ দিন যুদ্ধ চলে। ইরানি ও মার্কিনিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও এটি ভঙ্গুর অবস্থায় আছে।
যুদ্ধ শুরুর পর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তারা ইরানের পারমাণবিক শক্তিকে ধ্বংস করে দেবেন। এছাড়া ইরানের মিসাইল সক্ষমতাকেও শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্পের আরও লক্ষ্য ছিল ইরানের বিপ্লবী সরকারকে এমন দুর্বল করা যেন সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে তাদের পতন ঘটাতে পারে।
তবে টানা হামলা চালিয়েও যুদ্ধের একটি লক্ষ্যও অর্জন করতে পারেননি তিনি।
সূত্র : চ্যানেল-১২
