Home বাংলাদেশস্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ: আইসিটিতে সাজাপ্রাপ্তরা অযোগ্য, থাকছে না ইভিএম ও স্বতন্ত্র বিধান

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ: আইসিটিতে সাজাপ্রাপ্তরা অযোগ্য, থাকছে না ইভিএম ও স্বতন্ত্র বিধান

by thedeshbangla
০ comments

দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে নির্বাচন থেকে ইভিএম, পোস্টাল ব্যালট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য ভোটার স্বাক্ষরের বিধানও বাদ দেওয়া হচ্ছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত বা ফেরারি আসামিদের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। বিশেষ করে আইসিটির মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ নিশ্চিত করেছেন যে, ফেরারি আসামিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হচ্ছে না।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও আর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। ইভিএমগুলো সরকারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তুলে দেওয়া হচ্ছে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা, যার ফলে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ আর থাকছে না। এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ ঠেকাতে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধানটিও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দলীয় প্রতীক বাতিল হওয়ায় এখন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পুরোপুরি নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের যে জটিল নিয়ম ছিল, তা তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে সব স্তরের প্রার্থীদের জন্য হলফনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

প্রার্থীদের জামানত উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ইসি। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদে জামানত ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০-২৫ হাজার টাকা এবং পৌরসভায় এক লাখ টাকা বা তার বেশি করার চিন্তা রয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রভাব ঠেকাতে আচরণবিধিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ধারা যুক্ত করা হচ্ছে।

ঈদুল আজহার ছুটির আগেই কমিশন সভায় এই প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর সরকারের সম্মতির জন্য পাঠানো হবে এবং আগামী জুন মাসের মধ্যেই এই আমূল পরিবর্তনগুলোর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।

You may also like

Leave a Comment