Home সারাদেশশৈত্যপ্রবাহের কবলে ৯ জেলা, সামনে আরও তীব্র শীত

শৈত্যপ্রবাহের কবলে ৯ জেলা, সামনে আরও তীব্র শীত

by Akash
০ comments

নিচে আপনার দেওয়া লেখাটির সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ উপযোগী পুনর্লিখন (rewrite) দেওয়া হলো—তথ্য অক্ষুণ্ন রেখে ভাষা আরও প্রাঞ্জল ও ধারাবাহিক করা হয়েছে:


বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, চলতি জানুয়ারি মাসে দেশে তিন থেকে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কাও রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে দেশের ওপর দিয়ে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অন্তত আরও এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা কিছুটা ওঠানামা করলেও সারা দেশে ঘন কুয়াশা বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মাসিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে ২–৩টি মৃদু থেকে মাঝারি এবং ১–২টি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি এবং ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে সেটিকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া—এই ৯ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা টিবিএসকে জানান, গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) ঢাকায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আগামী এক সপ্তাহ তাপমাত্রা বর্তমান সীমার মধ্যেই ওঠানামা করতে পারে। কোথাও সামান্য বাড়লেও কোথাও আবার কমতে পারে। জানুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে ২–৩টি মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি তীব্র রূপ নিতে পারে।”

ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে সূর্যের আলো কম পৌঁছাবে এবং শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে। আগামী সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় রাজধানী ঢাকাতেও কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়, ডিসেম্বর মাসটি ছিল অস্বাভাবিকভাবে শুষ্ক। এ সময় সারা দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। ৩১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জে ডিসেম্বরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

তবে জানুয়ারি মাসে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় বৃষ্টিপাত ও দিন-রাতের তাপমাত্রা মৌসুমের স্বাভাবিক গড়ের কাছাকাছি থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, টানা কুয়াশা ও সূর্যের আলো কম থাকলে শীতের স্থায়িত্ব বাড়তে পারে। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক এবং বাইরে কর্মরত মানুষদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


You may also like

Leave a Comment