দেশের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় চালু থাকা সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পর্যায়ক্রমে একটি একক কার্ডের আওতায় আনা হবে, যাতে নাগরিকরা এক পরিচয়ে সব সরকারি সেবা ও সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের বাজেট সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক সেবা জনগণের প্রতি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং সাংবিধানিক দায়িত্ব। বর্তমানে চালু থাকা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ড একীভূত করে ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে।
কৃষকদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে এর সুফল পাচ্ছেন।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐক্য থাকা প্রয়োজন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতভিন্নতা থাকতে পারে, তবে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের অর্থপাচার ও দুর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষায় কাজ করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি এবং প্রায় আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাজেট সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সংসদে রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে, কিন্তু শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবর্তে ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশ যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারের কবলে না পড়ে এবং উগ্রবাদ ও চরমপন্থার কোনো স্থান না থাকে, সে জন্য জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার করে তোলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন।
