মাগুরার শালিখা উপজেলার গ্রামগুলোতে বর্তমানে কৃষি কর্মযজ্ঞে দম ফেলার ফুরসত নেই কৃষকদের। একপাশে আমন ধানের পাকা শিষ দোল খাচ্ছে, যা কাটার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে আউশ ধান কাটা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জমি প্রস্তুত করে সরিষার বীজ বপন শুরু হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, এবার আমনের ফলন ভালো হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।
শালিখা উপজেলার আড়পাড়া, তালখড়ি, শতখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে কোথাও কাঁচা, কোথাও পাকা ধান। তবে অনেক এলাকায় বাতাসে আমন ধানের পাকা গাছ হেলে পড়ায় চাষীদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে। এর মধ্যেই আউশ ঘরে তুলে খালি জমিতে হালচাষ দিয়ে সরিষার বীজ বুনে দিয়েছেন চাষিরা। একদিকে সরিষার বীজ বপন, অন্যদিকে আমন ধান কেটে ঘরে তোলার কাজে মাঠগুলোয় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আমন ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে, যেখানে চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৫৯১ হেক্টর জমি—অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। একইভাবে আউশ ধানেও ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে ২ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে।
আউশ ধানের ফলনও সন্তোষজনক ছিল। উফশি (উচ্চ ফলনশীল) জাতের ফলন হয়েছে হেক্টর প্রতি ৩.১ মেট্রিকটন এবং হাইব্রিড জাতে হেক্টর প্রতি ৩.৭ মেট্রিকটন। কৃষি বিভাগ আশা করছে, চলতি মৌসুমে আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে।
আমনের ভালো ফলনের পাশাপাশি আগাম জাতের সরিষা চাষেও কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। আগাম সরিষা চাষ করলে শীতকালে ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে বোরো ধান চাষের জন্য পর্যাপ্ত সময় মেলে। এই কারণে অনেকেই জমি খালি না রেখে দ্রুত সরিষা বুনে দিচ্ছেন।
তালখড়ি ইউনিয়নের ছান্দড়া গ্রামের চাষী হারেজ জানান, “এবার আমনে ধান ভালো ফলন হয়েছে। আউশ কাটার পর জমি ফাঁকা রাখিনি, সরিষা বপন করছি। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তবে দুই ফসলেই ভালো লাভ হবে।”
তবে আড়পাড়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের আমন চাষী নজরুল মোল্যা বলেন, “এ বছর ৫ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। ফলন ভালো হলেও কিছু জমির ধান গাছ বাতাসে পড়ে গেছে। ফলে ধান কাটার জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন, এ বছর আউশ ও আমনের শুরু থেকেই ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সার ব্যবহার এবং উপকারী ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি নিরূপণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি কৃষকদের সচেতন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “এ বছর আমনের ভালো ফলন হবে। পাশাপাশি সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”