ভেনেজুয়েলায় পর পর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৩৬০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আটকে আছেন অন্তত ১৭২ জন। নিখোঁজের তালিকা ছাড়িয়েছে ৫০ হাজার।
পরাঘাতের মধ্যেও অব্যাহত রয়েছে উদ্ধার অভিযান। উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সরঞ্জাম পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, মেক্সিকো ও সুইজারল্যান্ড। পাশাপাশি ১৫ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ভূমিকম্পে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চল। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। এখনও শতাধিক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চল থেকে এখন পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, মূল ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ২১৪টি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এতে উদ্ধার অভিযান আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন হয়ে উঠেছে। এরপরও জীবিতদের উদ্ধারে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
রাজধানী কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় শত শত ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শপিং সেন্টার এবং হাজারের বেশি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র চালু করা হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুর্যোগের আগেই হাসপাতালগুলো ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকটে ছিল।
হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থলের বাইরে স্বজনদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও বাড়ছে। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে শত শত মানুষ ভিড় করছেন আশ্রয়কেন্দ্র ও চিকিৎসাকেন্দ্রে। এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন ভাইবোনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা কিছুটা আশার আলো দেখালেও অধিকাংশ পরিবার এখনও প্রিয়জনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বুধবার রাতে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
