মহান বিজয় দিবস: বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা
আজ মহান বিজয় দিবস—সবুজ জমিনে লাল সূর্যখচিত স্বাধীনতার পতাকা অর্জনের গৌরবময় দিন। বীরত্বগাথা সেই অর্জনের ৫৪ বছর পেরিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ আজ ৫৫ বছরে পদার্পণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল শোষণহীন, বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়নিষ্ঠ সমাজ প্রতিষ্ঠা; সেই আকাঙ্ক্ষা নিয়েই জাতি আজ দিবসটি উদযাপন করছে।
বিশিষ্টজনদের মতে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত রাষ্ট্র ও সমাজ এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় নতুন প্রত্যাশা জাগিয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে এবারের বিজয় দিবস জাতির সামনে নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, ঐক্য ও সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
দেশজুড়ে আজ নানা কর্মসূচিতে বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা, জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সর্বত্র জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরছে।
আজকের এই দিনে জাতি শপথ নিচ্ছে—অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবতা, ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার। সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা বীরশ্রেষ্ঠ, শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই বিজয়।
