Home বাংলাদেশনির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ভোটারদের অংশগ্রহণ: ইইউ রাষ্ট্রদূত

নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ভোটারদের অংশগ্রহণ: ইইউ রাষ্ট্রদূত

by The Desh Bangla
০ comments

বাংলাদেশে আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কায় বিপুলসংখ্যক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তার মতে, এই বৃহৎ অংশের ভোটারকে আবার ভোটকেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বৈঠকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একযোগে হতে যাওয়া গণভোট নিয়ে আলোচনা হয়।

মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক ভোটার আছেন, যারা কখনোই ভোট দেননি— বা গত কয়েকটি নির্বাচনে অংশ নেননি। কেউ সহিংসতার আশঙ্কায়, কেউ ভেবেছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। প্রায় পুরো একটি প্রজন্ম রয়েছে, যারা কখনো ভোট দেয়নি। এই ভোটারদের কেন্দ্রে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণভোটের বিষয়ে অনেক ভোটারের বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—এটা ভোটারদের জন্য নতুন পরিস্থিতি। তবে এখনই বাংলাদেশের মানুষের জন্য সময়, অংশ নিয়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দেওয়ার যে তারা একটি গণতান্ত্রিক, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে প্রস্তুত।’

গত সপ্তাহে ইসি আয়োজিত মক ভোটিং পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট আয়োজনের যে অগ্রিম প্রস্তুতি তিনি দেখেছেন, তাতে তিনি মুগ্ধ। ‘নির্বাচন কমিশনের পেশাদারিত্ব ও সক্ষমতার প্রতি আমাদের আস্থা আছে,’ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে একটি বড় আকারের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ‘এটি বাংলাদেশের নির্বাচনপ্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের আস্থারই প্রতিফলন,’ বলেন মিলার।

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ভালো প্রস্তুতি চোখে পড়ছে। বড় জনসংখ্যার দেশে সাধারণ ভোটারদের শিক্ষিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। গণভোটের প্রক্রিয়া ও প্রশ্ন নিয়ে মানুষের কৌতূহল আছে, তবে ইসির এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। লজিস্টিক ও নিরাপত্তা—এই দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে—এ বিষয়ে আমি খুবই আশাবাদী।’ আরেক প্রশ্নে নির্বাচনকে ঘিরে চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমবার ভোট দিতে আসা বিপুলসংখ্যক তরুণ ও আগে ভোট না দেওয়া নাগরিকদের কাছে প্রক্রিয়াটি পরিষ্কার করা জরুরি। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—কীভাবে ভোট দেবেন, সেটি মানুষকে বুঝতে হবে।

তিনি আরও জানান, ইসি ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিকে তিনি ‘প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছেন।

ভোট প্রক্রিয়ায় যুক্ত সব অংশীজনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কথা বলেছে উল্লেখ করে মাইকেল মিলার বলেন, ‘কীভাবে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমিয়ে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা যায়—এটা এখন নির্বাচন কমিশনকে ভেবে দেখতে হবে।’

You may also like

Leave a Comment