১৯
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় আদালত অবমাননার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমান। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ফজলুর রহমান আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, যা বলেছেন তা ভুলে বলেছেন এবং আদালতের অনুকম্পা কামনা করেছেন। এ বিষয়ে আগামী ৮ ডিসেম্বর শুনানি হবে।
এর আগে ৩০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ফজলুর রহমানকে সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দেয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা, আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে মন্তব্য এবং প্রসিকিউশনকে ‘শিবিরপন্থী’ বলা—এই তিন কারণেই ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। ২৬ নভেম্বর প্রথম শুনানি হয়; ৩০ নভেম্বর অবশিষ্ট শুনানিতে অভিযোগের ভিডিও ফুটেজও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।
গত ২৩ নভেম্বর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ‘মুক্তবাক’ টকশোতে অতিথি হয়ে অংশ নেন ফজলুর রহমান। সেখানে তিনি বলেন— “আমি এই কোর্ট মানি না। এই কোর্টের বিচার মানি না… এই কোর্টে শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে না।” এছাড়া প্রসিকিউশনকে “শিবির সমর্থিত” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালকে জানান, ট্রাইব্যুনাল আইন না বুঝেই এসব মন্তব্য করেছেন ফজলুর রহমান। তার রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়—তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমপি প্রার্থী।
ট্রাইব্যুনাল জানায়—
- ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণীত হয়েছে ১৯৭৩ সালে এবং এর মাধ্যমে ১৯৭১ সালের আগে-পরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা যায়।
- প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
