৩৯সেনাবাহিনী–পুলিশসহ সব বাহিনী আইনের আওতায়
গুমের সংজ্ঞা ও শাস্তি
সাক্ষ্য নষ্ট ও গোপন আটককেন্দ্রের জন্য ৭ বছর জেল
ট্রাইব্যুনাল, জামিন–আপস অযোগ্য অপরাধ
গ্রেপ্তার ব্যক্তির অবস্থান গোপন রাখার বিতর্কিত ধারা
পরিবারের সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ
আগের সিদ্ধান্ত ও সময়সীমা
গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে।
সেনাবাহিনী–পুলিশসহ সব বাহিনী আইনের আওতায়
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুমের সঙ্গে জড়িত সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য সব শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের বিচার করা যাবে এই আইনের অধীনে। গুমের আদেশ বা অনুমতি দানকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডারদেরও অধস্তনের সমান শাস্তি পেতে হবে; এমনকি তারা নিজে সরাসরি অংশ না নিলেও আদেশ, অনুমোদন, প্ররোচনা কিংবা তত্ত্বাবধানে ব্যর্থতার দায়েও দণ্ডিত হবেন।
গুমের সংজ্ঞা ও শাস্তি
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি কাউকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণের পর সে সম্পর্কে অস্বীকার করেন, অথবা ওই ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন রাখেন এবং এর ফলে ব্যক্তি আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে তা ‘গুম’ এবং শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তির শাস্তি হতে পারে—
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অথবা
- সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড।
গুমের ফলে কেউ মারা গেলে, অথবা গুমের পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না গেলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
সাক্ষ্য নষ্ট ও গোপন আটককেন্দ্রের জন্য ৭ বছর জেল
যদি কেউ গুমের সাক্ষ্য–প্রমাণ নষ্ট করেন, অথবা গুমের উদ্দেশ্যে গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করেন, তাহলে তার সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল, জামিন–আপস অযোগ্য অপরাধ
অধ্যাদেশে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এসব মামলার অপরাধ—
- জামিন অযোগ্য
- আপস অযোগ্য
