আওয়ামী লীগ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ ৩০ জনের শুনানির দিন আজ। গুমের দুটি মামলায় সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনে পুলিশ। পরে একে একে হাজতখানায় নেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালে আনা ১৩ কর্মকর্তা হলেন— র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অব.), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর প্রথমবার হাজিরের পর ট্রাইব্যুনাল তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পলাতক আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, দুটি মামলাই গুম-নির্যাতনসংক্রান্ত। টিএফআই সেলে ১৪ জনকে আটক ও গুম করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলার ১০ জনকে হাজির করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রামপুরায় গণ-অভ্যুত্থানের সময় গুলি করে মানুষ হত্যার আরেক মামলায়ও ৮ অক্টোবর ফরমাল চার্জ গঠনের পর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।