২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এবং ২০২৭ সালে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার যোগ্য শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগামী ২ আগস্ট থেকে শুরু হবে। বিলম্ব ফি ছাড়া নিবন্ধন ও ফি জমা দেওয়া যাবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শন শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বোর্ডের আওতাধীন সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।
এবার শুধু অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং পূর্বে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরাই নবম শ্রেণিতে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবে। নিবন্ধনের সময় শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য অনলাইনে যুক্ত করতে হবে। অনলাইনে সংরক্ষিত তথ্যের বাইরে কোনো দাবি গ্রহণ করা হবে না।
শিক্ষার্থীদের বয়স নিয়েও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। রেজিস্ট্রেশনের সময় কোনো শিক্ষার্থীর বয়স ১২ বছরের কম বা ১৮ বছরের বেশি হলে তার নিবন্ধন গ্রহণ করা হবে না।
বিভাগ নির্বাচন বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেবেন। পরে শিক্ষার্থীরা অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করে বিভাগ নির্বাচন করবে এবং এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন করবে। প্রয়োজনে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলও বিবেচনায় নেওয়া যাবে।
রেজিস্ট্রেশনের তথ্য নির্ভুল রাখতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিশিক্ষকসহ তিন সদস্যের একটি রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন করতে হবে। চূড়ান্ত তথ্য জমা দেওয়ার আগে ভর্তি ফরমের তথ্যের সঙ্গে অনলাইন তথ্য মিলিয়ে দেখবে এই কমিটি। এ কাজে কোনো শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করা যাবে না। তথ্যগত ভুল বা অনিয়মের দায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও কমিটির সদস্যদের বহন করতে হবে।
বোর্ড নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি জনপ্রতি ১৯৬ টাকা। নির্ধারিত সময়ের পর বিলম্ব ফিসহ নিবন্ধন করতে হলে ৩৩৬ টাকা দিতে হবে, যার মধ্যে ১৫০ টাকা বিলম্ব ফি।
ফি পরিশোধের জন্য শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে OEMS/eSIF-এ লগইন করে ‘eSIF SSC 2026’ অপশন থেকে সোনালী সেবা স্লিপ সংগ্রহ করবে। ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর পেমেন্ট ক্লিয়ার হলে ই-এসআইএফ পূরণ করা যাবে। একই চালানের ফটোকপি ব্যবহার করে অর্থ জমা দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন বাবদ ১ হাজার টাকা এবং বিশ্ব স্কাউট সংস্থার ফি হিসেবে ৪০০ টাকা নির্ধারিত হিসাবে পে-অর্ডার বা ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
যেসব প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি বা নবায়ন হালনাগাদ নেই, তাদের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অনলাইনে নবায়নের আবেদন করতে হবে। সম্প্রতি স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না হলে বা এ-সংক্রান্ত কোনো জটিলতা তৈরি হলে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বহন করতে হবে।
