নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে সিজান নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার(৫ জুলাই) রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়৷
নিহত সিজান (২৫) পশ্চিম মাসদাইর এলাকার ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সিজান মাদক সেবন ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত। প্রায় রাতে এলাকার লোকজনকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় জিসানসহ তার সহযোগীরা। শনিবার রাতে সিজানসহ তার এক সহযোগী এক যুবকের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাই করলে ওই যুবক এলাকার মাদক-সন্ত্রাসবিরোধী একটি সামাজিক সংগঠনের কাছে নালিশ দেয়। পরে কমিটির লোকজন সহ স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে সিজানসহ তার সহযোগীকে ধরে এনে মারধর করে৷ এক পর্যায়ে জিসান অচেতন হয়ে পড়লে ওই অবস্থায় তাকে পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে শহরের খানপুর ৩শ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
এদিকে মাসদাইর মোড়ে সিজানকে নির্যাতনের সময় একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেঁধে সিজান ও তার সহযোগী যুবককে পিটিয়ে ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। অপরপাশে মাসদাইর মসজিদের ইমাম কাউসার আহমেদের মাইকে ঘোষণা করছে অপরাধকে মারছে জনগণ। জনগণ মারলে কোন মামলা নেই। যখনি মাইকে ঘোষণা করা হবে সবাইকে এই ভাবে একত্রিত হতে হবে।
এলাকাবাসী জানায়, চলতি বছর পশ্চিম মাসদাইর মসজিদের ইমাম কাউসার আহমেদের সভাপতিত্বে এলাকার যুবকদের নিয়ে আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠন নামে মাদক-সন্ত্রাসবিরোধী একটি সামাজিক সংগঠন গঠন করেন। এই কমিটির লোকজন কয়েকমাস আগে সিজানকে সব অপকর্ম থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে বলার পরও সে ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম ছাড়েনি। এতে তার উপর ক্ষিপ্ত ছিলো সংগঠনের সদস্যরা।
নিহতের বাবা ইউনুছ মিয়ার অভিযোগ, শনিবার রাত ১০টার দিকে মসজিদের ইমাম কাউসারের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য সিজানের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যান। এরপর তাকে বেধড়ক পিছিয়ে অচেতন অবস্থা পরিবারের লোকজনের তাছে সিজানকে তুলে দেয়। পরে জিসানকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সিজানকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মসজিদের ইমাম ও আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা কাওসার আহমেদ দাবি করেন, সিজানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে এলাকাবাসি ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করেছে, তিনি নিজে মারধর করেনি বলে দাবি করেন। তবে মাইকে ঘোষণার বিষয়ে কোন উত্তর না দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন।
নির্যাতনের কারনেই জিসানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম। তিনি জানান, সিজানের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে৷ নিহত সিজানের মরদেহ দাফনের পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ মাসদাইর এলাকায় অভিযান চালিয়েছে৷ যারা হত্যাকান্ডে জড়িত তারা পালিয়েছে। তবে অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া আহত আরেক যুবক হাসপাতালে ভর্তি। তার পরিচয় সহ বিস্তারিত এখনো পাওয়া যায়নি।
