মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ শুক্রবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় পৌঁছেছে। শনিবার (আজ) তার আনুষ্ঠানিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষ এবং বিদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে ।
৮৬ বছর বয়সী খামেনির জন্য আয়োজিত এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন শোকাহত মানুষের সমাগম হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এটি ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হতে চলেছে ।
ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সব ইরানি নাগরিককে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “আপনাদের উপস্থিতির মাধ্যমে ইসলামী ইরানের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় রচনা করুন।” তিনি আরও বলেন, “জাতির প্রতিশোধের ডাক সমগ্র বিশ্বের কানে বাজতে হবে।”
খামেনির মরদেহ তিন দিন ধরে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা থাকবে। পরে মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং আগামী ৯ জুলাই তার জন্মস্থান, উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে ।
এই উপলক্ষে তেহরান এবং পবিত্র শহর কোম ও মাশহাদে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলো শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। শহরের কেন্দ্রস্থল ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য দুর্গম থাকবে এবং তেহরানের আকাশসীমা শুক্রবার থেকে আংশিকভাবে ও সোমবার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে।
প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা এই জানাজায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে । পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ উপস্থিত থাকবেন । এছাড়া চীন, আফগানিস্তান এবং ককেশাস অঞ্চলের ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোও প্রতিনিধি পাঠাবে বলে জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির জন্য প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পালন করছে। এই সময়ে খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে ।
শ্রমিক হোসেইন মোগাদাসি বলেন, “আমাদের শহীদ পথপ্রদর্শকের বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য আমরা ফুল লাগাচ্ছি এবং ঝোপঝাড়ে জল দিচ্ছি। ইরানের সব জায়গা থেকে মানুষ আসবে। বিশাল জনসমাগম হবে।”
