রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পল্টুন থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা এই প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার পেছনে বাসের যান্ত্রিক ত্রুটিকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার প্রতিবেদন জমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে এই প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি এখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তদন্তের বিষয়ে কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মতামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। সার্বিক পর্যবেক্ষণে যান্ত্রিক ত্রুটিসহ একাধিক কারণ এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে উঠে এসেছে।
এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পল্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় বাসের চালকসহ অন্তত ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। দুর্ঘটনার দিনই কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পল্টুন থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
