ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের আত্মসম্মানে লেগেছে। প্রথম দিন থেকেই জামায়াত আমির চরমোনাই পীরকে (মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম) ইনসাল্ট (অপমান) করেছেন। তিনি জরিপের (একটি জাতীয় পত্রিকার জরিপ) কথা বলে আমাদের আমিরকে ইনসাল্ট করেছেন। সেদিনই আমাদের আমির বলেছেন, তাদের হয়তো মতলব ভালো না। আমরা দেখলাম শেষ পর্যন্ত তারা এই জরিপের মধ্যেই ছিলেন। তারা বলেছেন, আপনাদের তো অনেক আসন দেওয়া হয়েছে, জরিপে তো এত পার্সেন্ট না।’
আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে এসব কথা কলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয় দলটি।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘প্রচলিত আইনে ৫৪ বছর রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে, এই আইন ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সব সময় বলে এসেছি প্রচলিত আইনের পরিবর্তে আল্লাহর আইন, ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করি। এখন যদি দেখি প্রধান রাজনৈতিক শক্তি আল্লাহর আইন নয়, প্রচলিত আইন প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করবে, তখন আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে না। জোটবদ্ধ ইসলামী সংগঠনগুলোর প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। তবে তারাও যেন জামায়াতের এসব নীতির ব্যাপারে ক্লিয়ার হয়ে নেন।’
তিনি বলেন, ‘একটি কারণই নয়, রাজনৈতিক কারণের মধ্যে হচ্ছে আমরা যখন একই সঙ্গে নির্বাচন করব তখন উভয়ের পারস্পারিক সম্মানবোধ থাকতে হবে। জামায়াত নেতারা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বলেছেন তারা ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সরকার গঠন করবেন। আমাদের প্রশ্ন হলো তিনি একটি জোটে আছেন, এখানে জাতীয় সরকার হবে না কি সরকার হবে- এটা একটা মৌলিক প্রশ্ন। তিনি (জামায়াত আমির) তো এই বিষয়টি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেননি। নির্বাচনের আগেই যদি সমন্বয় হয়ে যায় প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে, তাইলে এই নির্বাচন পাতানো হবে কি না, সমঝোতার হবে কি না সেটিও সন্দেহ চলে আসে। ফলে আগামী দিনের সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কি না এই আশঙ্কাটা আমাদের মধ্যে আছে। যখন আস্থা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধার জায়গা ভেঙে যায়, তখন জোট থাকে না।’
গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। এতে আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে না। তারা ইসলামের আদর্শ থেকে ভিন্ন দিকে চলে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর লাখ লাখ কর্মী সমর্থকরা আল্লাহর আইন থেকে সরে গেলেন। প্রচলিত আইনে রাষ্ট্র শাসনের কথা বলায় আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হয়েছে। জামায়াত ক্ষমতাকেই বড় করে দেখছে। আমরা তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথে বাধা হতে চাই না।’
প্রসঙ্গত, ইসলামি ভোটের ‘এক বাক্স নীতি’র আলাপ তুলেছিল ইসলামী আন্দেোলন বাংলাদেশ। পরে জামায়াতে ইসলামীসহ মোট আট দল নিয়ে একটি জোট হয়। এজোটের অন্যতম শরিক ছিল ইসলামী আন্দোলন। পরে এ জোটে এনসিপি, বিডিপি ও এবি পার্টিও যোগ দেয়। তবে এ জোটে জামায়াতের কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে ইসলামী আন্দোলন। গত বুধবার জোটের আসন সমঝোতার ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়ার কথা ছিল। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় তা ঘোষণা দিতে পারেনি জোটটি। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলনকে রেখেই ২৫৩ আসনে জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর আজ এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিল ইসলামী আন্দোলন।
