বিপিএলের দল নোয়াখালী এক্সপ্রেস ছেড়েছেন মোহাম্মদ নবি। অবশ্য তার ছেলে খেলবেন। আফগানিস্তানের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ তিনি খেলবেন। তাই ঢাকা ছেড়ে গেলেন এ অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। পরশু শীর্ষ স্তরের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে বাবা-ছেলে হিসেবে একই ম্যাচে খেলতে নেমে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবি ও ছেলে হাসান ইশাখিল। পরশু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মুখোমুখি হয়েছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও ঢাকা ক্যাপিটালস। এ ম্যাচে নোয়াখালীর হয়ে খেলতে নামেন নবি ও ইশাখিল। দেশের বাইরে এই প্রথম কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে নামেন ইশাখিল। ৪১ বছর বয়সী বাবা নবির হাতে ক্যাপ পরে অভিষেক হয় ছেলে ইশাখিলের।
এমনকি নোয়াখালীর ব্যাটিং ইনিংসেও চতুর্থ উইকেটে ৩০ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন নবি ও ইশাখিল। নবি ১৭ রানে আউট হলেও ৬০ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৯২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ১৯ বছর বয়সী ইশাখিল। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে ঢাকার বিপক্ষে ৪১ রানে জয় পায় নোয়াখালী। নবি-ইশাখিলের আগে স্বীকৃত ক্রিকেটে বাবা-ছেলের একসঙ্গে খেলার নজির আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিবনারাইন চন্দরপল ও তেজনারাইন চন্দরপলের। ২০১৪ সালে ক্যারিবিয়ান বাবা-ছেলে হিসেবে গায়ানার হয়ে একসঙ্গে ১১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন দুজন। বাবার অধিনায়কত্বেও কিছু ম্যাচ খেলেন তেজনারাইন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাবা-ছেলের একসঙ্গে খেলারও ইতিহাস আছে। গত নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে তিমুর লেস্তের হয়ে খেলেছেন বাবা সুহাইল সাত্তার ও ছেলে ইয়াহিয়া সাত্তার। ওই ম্যাচে বাবার বয়স ছিল ৫০ বছর এবং ছেলের ১৭ বছর।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাবা-ছেলের একসঙ্গে খেলার আরও নজির আছে। ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছেন বাবা ডব্লিউ জি গ্রেস ও ছেলে চার্লস গ্রেস। বাবা মিকি স্টুয়ার্টের সঙ্গে খেলেছেন সাবেক অধিনায়ক অ্যালেক স্টুয়ার্ট এবং জিম্বাবুয়ের হিথ স্ট্রিক খেলেছেন বাবা ডেনিস স্ট্রিকের সঙ্গে। এ ছাড়া মা-মেয়ে হিসেবে গত বছর সুইজারল্যান্ডের হয়ে ৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মা মেটি ফার্নান্দেজ ও মেয়ে ন্যায়না মেটি ফার্নান্দেজ।
নবি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি সত্যিই খুব খুশি আমার ছেলের সঙ্গে একসঙ্গে খেলতে পেরে এবং আমি এটা অনেক দিন ধরেই অপেক্ষা করছিলাম। আমি তাকে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি করেও এনেছি। অভিষেকে সে সত্যিই খুব ভালো পারফরম করেছে। আমরা দুজন একই ক্রিজে ছিলাম, তখন তাকে পরিস্থিতিটা বলছিলাম-কী চলছে, পরের বলটা কেমন হতে পারে, ফাস্ট নাকি সেøা। আর সে সেটা জানে, সে ওই বলগুলোর জন্য অপেক্ষা করছিল। আর সে খুব ভালো খেলেছে।’
