Home বিনোদনসারাদেশে চলচ্চিত্র উৎসব ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

সারাদেশে চলচ্চিত্র উৎসব ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

by The Desh Bangla
০ comments

‘শুধু ঢাকা মানেই বাংলাদেশ নয়, আমাদের বিভাগীয় শহরেও অনেক মানুষ আছেন, যারা সিনেমা দেখতে চান’- ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তাই তিনি আগামী বছর থেকে এই উৎসবকে সারাদেশে কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনার জন্য উৎসব কর্তৃপক্ষ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটিজের আয়োজনে আজ পর্দা উঠলো ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে উদ্বোধনী পর্বের শুরুতে ছিল থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি ও জলতরঙ্গ গোষ্ঠীর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল। জানান, এ বছর প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্টে উৎসবের চলচ্চিত্রগুলোর উন্মুক্ত প্রদর্শনী হচ্ছে। আগামী বছর তা আরও বড় পরিসরে আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শিওপেং এবং ক্রোয়েশিয়া-যুক্তরাজ্যভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মারকোভিচ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বক্তব্যের শুরুতে তিনি কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং সবাইকে প্লাস্টিকের পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে আগামী বছর প্রতিটি বিভাগীয় শহরেও ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘শুধু ঢাকা মানেই বাংলাদেশ নয়, আমাদের বিভাগীয় শহরেও অনেক মানুষ আছেন, যারা সিনেমা দেখতে চান; তাই আগামী বছর যেন এই উৎসবকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, উৎসব কর্তৃপক্ষ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে তা নিয়ে ভাববার আহ্বান জানাই।’

৯ দিনব্যাপি এই উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রদর্শিত হয় চেন শিয়াং পরিচালিত চীনা সিনেমা ‘উ জিন ঝি লু’ (দ্য জার্নি টু নো এন্ড)। সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হচ্ছে মোহাম্মদ আসাদানিয়া পরিচালিত ইরানি ছবি ‘উইদাউট মি’।

এবারের উৎসবে এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, রেট্রোস্পেকটিভ, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, বাংলাদেশ প্যানোরমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্ম সেশন, উইমেন ফিল্মমেকার বিভাগ, শর্ট অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম, স্পিরিচ্যুয়াল ফিল্ম ও ওপেন টি বায়োস্কোপ বিভাগে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

ভেন্যু হিসেবে রয়েছে জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নাট্যশালার মূল মিলনায়তন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মিলনায়তন ও কক্সবাজার লাবণী পয়েন্ট।

উল্লেখ্য, এবারই প্রথমবার কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উৎসবের চলচ্চিত্রগুলোর ওপেন এয়ার স্ক্রিনিং। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবের সিনেমাগুলো লাবণী পয়েন্টে দেখানো হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

উৎসবে এবারও অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্ট মিটস ইস্ট স্ক্রিনপ্লে ল্যাব। এই ল্যাব শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, পুরো এশিয়া মহাদেশের নির্মাতাদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে থেকে শীর্ষ ১০টি প্রকল্প নির্বাচিত করা হয়েছে। এই ল্যাবে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য পাবে নগদ ৫ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারকারী চিত্রনাট্য পাবে ৩ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থান জয়ী চিত্রনাট্য পাবে ২ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে মাস্টারক্লাস। দিনব্যাপী এই আয়োজনে বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কথা বলবেন সুইস ফিল্ম ম্যাগাজিন সিনেবুলেটিনের এডিটর ইন চিফ টেরেসা ভিনা, ক্রোয়েশিয়ান নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মারকোভিচ এবং বাংলাদেশের নির্মাতা ও প্রোডাকশন ডিজাইনার লিটন কর।

সবশেষে ১৮ জানুয়ারি পর্দা নামবে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। সমাপনী দিনে বিকেল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অনুষ্ঠান শেষে দেখানো হবে উৎসবে সেরার পুরস্কার পাওয়া সিনেমাটি। সংগীত পরিবেশন করবেন আহমেদ হাসান সানি।

You may also like

Leave a Comment