ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দেশটিতে দুই সপ্তাহ ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সীমারেখা টেনে দিয়ে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা জনসম্পত্তি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার জন্য প্রস্তুত। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে দুই সপ্তাহ আগে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক রূপ নেওয়ার পাশাপাশি তীব্র হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন শহরে। ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমাগত ইরানে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আল-জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল।
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য রক্ষা করা এবং জননিরাপত্তা দেওয়া তাদের ‘রেড লাইন।’ শত্রুদের ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ইরানের জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে আইআরজিসি। চলমান পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’বলে উল্লেখ করেছে তারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাতে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। এসব হামলায় কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
এদিকে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অধীনে থাকা ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জনসম্পত্তি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
আইআরজিসি ও ইরানের সেনাবাহিনীর এই ঘোষণার একদিন আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের কড়া বার্তা দেন। জানান, বিক্ষোভকারীদের গুলি করলে যুক্তরাষ্ট্র তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাবে। এ ছাড়া, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র।’
যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণার পর শুক্রবার রাতভর বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল ইরানের বিভিন্ন শহরে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে শিরাজ, কোম ও হামেদান শহরে বিক্ষোভে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শেষকৃত্যের ফুটেজ সম্প্রচার করা হয়।
ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে দুই সপ্তাহ আগে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। আরও তীব্র হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন শহরে। বিক্ষোভকারীরা এখন ধর্মীয় শাসনের অবসান দাবি করছে। ইরানের অভিযোগ, বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদ রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় ‘দাঙ্গাকারীরা’। অস্থিরতা দমনে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা বজায় রেখেছে। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী টেলিফোনে জানিয়েছেন, রেভল্যুশনারি গার্ডস সদস্যদের ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা সরাসরি গুলি চালাচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ব্যক্তি তার নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
ইরানের বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে যখন তীব্র ক্ষোভ বাড়ছে, তখন নির্বাসিত শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি বিদেশ থেকে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে সরব হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পাহলভি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এখন কেবল রাস্তায় নামা নয়; আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শহরের কেন্দ্রগুলো দখল করা এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা।’
পাহলভি পরিবহন, তেল, গ্যাস এবং জ্বালানিসহ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতের শ্রমিক ও কর্মচারীদের দেশব্যাপী ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে তিনি পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী নন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনো বিরোধী নেতাকে সমর্থনের আগে ট্রাম্প পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
গত গ্রীষ্মে ইরানে বোমা হামলা চালানো ট্রাম্প শুক্রবার পুনরায় সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘আপনারা (ইরান সরকার) গুলি চালানো শুরু করবেন না। কারণ তা হলে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবে। কারণ ওই দেশ এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক স্থানে পরিণত হয়েছে।’
মাঠপর্যায়ে কিছু বিক্ষোভকারীকে পাহলভির সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা গেলেও বেশির ভাগ স্লোগান ছিল ধর্মীয় শাসনের অবসান এবং বিপর্যস্ত অর্থনীতি সংস্কারের দাবিতে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইরানের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে বিপুলসংখ্যক অ
