ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জের ৩টি আসনে ১৭ জন বৈধ প্রার্থীর হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে শিক্ষায় পিছিয়ে আছেন প্রার্থীরা। এর মধ্যে স্বশিক্ষিত ৪ জন। এসএসসি ১, এইচএসসি ২, কামিল পাস ১, এমএসসি ১, এমএসএস ২, বিএসএস ৩, এমবিএ ১, এমবিবিএস ১, কাফিয়া জামাত পাস ১ জন। তবে ব্যবসায় সফল হয়েছেন অনেকেই। ১৭ জনের মধ্যে অর্ধশত কোটিসহ কোটিপতি ৬ জন। জেলার আসনগুলোতে মোট ২৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদীখান-শ্রীনগর) : এ আসনে বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহ তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন এসএসসি পাস। তিনি আল-মুসলিম গ্রুপের কর্ণধার। তার স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৩৪ কোটি ৭২ লাখ ৩২ হাজার ২৭৬ টাকা। জামায়াতে ইসলামীপ্রার্থী অধ্যাপক এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজী কামিল পাস। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রোকেয়া আক্তার বিএসএস পাস। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আতিকুর রহমান খান এমএসসি পাস বলে উল্লেখ করেছেন। তারা তিনজনেরই সম্পদের পরিমাণ ৪০ লাখ টাকার নিচে উল্লেখ করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) : এ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। অপর ৪ প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ ৪০ লাখ টাকার নিচে।
আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমএসএস পাস। ৩ কোটি ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ২৯৮ টাকা। তার স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৬৫ লাখ ৭২ হাজার ৩০৫ টাকা। এসব সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত, স্বর্ণ ও অন্য সম্পদ অন্তর্ভুক্ত। স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নামে রয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৪ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ২৫৭ টাকার সম্পদ। এসবের মধ্যে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও জমি রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কে এম বিল্লালের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি এবং তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার ২১০ টাকা এবং তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৭ টাকা ৮৮ পয়সা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নামে রয়েছে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ৪৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার নামে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ১ হাজার ৬৩০ টাকার ঋণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এনসিপির প্রার্থী মাজেদুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ এবং তিনি পেশায় ব্যাংকার। তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৫ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৬ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ২১ লাখ ১৫ হাজার ৭৭৫ টাকা। তার স্থাবর সম্পদের মূল্য ৮০ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া তার নামে ১৮ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬০ টাকার ঋণের তথ্য রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীমের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ অনার্স ও মাস্টার্স। তিনি পেশায় শিক্ষক। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী আশিক মাহমুদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস এবং তিনি পেশায় চিকিৎসক। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম স্বশিক্ষিত এবং পেশায় ব্যবসায়ী। জাতীয় পার্টির প্রার্থী নোমান মিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসএস এবং তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। খেলাফত মজলিসের আমিনুল ইসলাম নিজেকে স্বশিক্ষিত উল্লেখ করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) : এ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে দুজন কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতনের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৮৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৫৩ টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ রয়েছে ২৫ লাখ টাকা ।
খেলাফত মজলিসের হাজী আব্বাস কাজী স্বশিক্ষিত। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মো. শিমুল বিএসএস পাস। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুমন দেওয়ান কাফিয়া জামাত পাস। বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনিছ মোল্লা স্বশিক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন।
