লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে চার পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ নতুন বছরের আগের দিনই বড় ধাক্কা খেয়েছে। ক্লাবটির ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে বাঁ হাঁটুর চোটে পড়েছেন এবং আগামী কয়েকটি ম্যাচে তাকে পাওয়া নাও যেতে পারে-বুধবার এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদ জানায়, পরীক্ষার পর এমবাপ্পের বাঁ হাঁটুতে স্প্রেইন (মচকানো) ধরা পড়েছে। তবে তার সুস্থ হয়ে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
ক্লাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ রিয়াল মাদ্রিদ মেডিকেল সার্ভিসেসের পরীক্ষার পর আমাদের খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পের বাঁ হাঁটুতে স্প্রেইন ধরা পড়েছে। তার অবস্থার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।’
এদিকে ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ কোনো নির্দিষ্ট সূত্র উল্লেখ না করে জানিয়েছে, এমবাপ্পে অন্তত তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে পারেন। পত্রিকাটি আরও জানায়, কয়েক সপ্তাহ ধরেই হাঁটুর ল্যাটারাল লিগামেন্টে সমস্যায় ভুগছিলেন এমবাপ্পে। বুধবার সকালে করা এমআরআই স্ক্যানে একটি ক্ষত ধরা পড়েছে, যার জন্য চিকিৎসা ও বিশ্রাম প্রয়োজন।
চোটের কারণে বুধবার মাদ্রিদে বছরের শেষ অনুশীলন সেশনেও অংশ নেননি এই ফরাসি তারকা।
এমবাপ্পের এই চোট রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বড় ধাক্কা, কারণ সম্প্রতি দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতেই তিনি ২০২৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নিজের ৫৯তম গোল করেন, যা এক বছরে সর্বোচ্চ গোলের ক্লাব রেকর্ডে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তাকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে।
২০২৪ সালে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ছেড়ে রিয়ালে যোগ দেওয়া এমবাপ্পে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২৯ গোল করেছেন। এর মধ্যে লা লিগায় তার গোল ১৮টি, যা লিগে সর্বোচ্চ।
তার অনুপস্থিতি নতুন বছরে রিয়াল মাদ্রিদের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সংক্ষিপ্ত বিরতির পর রোববারই তাদের পরবর্তী ম্যাচ।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো-৮ জানুয়ারি সৌদি আরবের জেদ্দায় সুপারকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে রিয়াল। ফলে সেই ম্যাচে এমবাপ্পের ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রবল। ১১ জানুয়ারি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগিতার।
অনেকের মতে, সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জাবি আলোনসোর ভবিষ্যৎও অনেকটাই নির্ভর করছে। আর দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে ছাড়া খেলতে হলে আলোনসোর জন্য চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
