Home আইন-আদালতআইনজীবী অসুস্থ দাবি করলেও লতিফ সিদ্দিকী বললেন, তিনি সুস্থ

আইনজীবী অসুস্থ দাবি করলেও লতিফ সিদ্দিকী বললেন, তিনি সুস্থ

by The Desh Bangla
০ comments

আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরার আবেদনের শুনানিতে আইনজীবী দাবি করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বয়স্ক, অসুস্থ। তবে নিজে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে লতিফ সিদ্দিক বললেন, ‘সুস্থ, সবল আছি।’

‎শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) শুনানিতে এই ঘটনা ঘটে।

‎মামলাটিতে লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খানসহ কয়েকজন জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দেন। আইনজীবীরা তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরার আবেদন করেন।

‎সকাল সোয়া ১১ টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা মামলার শুনানির কার্যক্রমশুরু করেন।

‎বিচারক এজলাসে উঠলে লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্য আসামিরা আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ান।

‎শুনানিতে লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী এ এফ এম রেজাউল করিম (হিরন) জানান, লতিফ সিদ্দিকীর বয়স ৮৭ বছর। তিনি বয়স্ক, অসুস্থ একজন মানুষ।

‎তখন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা লতিফ সিদ্দিকী এর বিরোধিতা করে বলেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ না, এটা বলবেন না। আমি এ বয়সেও সুস্থ, সবল আছি। আমার আইনজীবী যে ভঙ্গিতে বলছেন, আমি সহজ করে বলি। দেশের নাগরিক হিসেবে, বয়স, অবদান অনুযায়ী যদি সঙ্গত মনে করেন, তাহলে যতদিন চার্জগঠন না হয় হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেবেন।’ অন্যান্য আসামিদের পক্ষেও আইনজীবীরাও শুনানি করেন। পরে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন।

‎পরে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে আজকের মত আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।

‎গত ২৮ অগাস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে এক আলোচনা সভায় ‘মব’ হামলার শিকার লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক পান্নাসহ ১৬ জনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

‎পরদিন শাহবাগ থানায় তাদের নামেই উল্টো মামলা করা হয়, যেখানে ‘দেশকে অস্থিতিশীল এবং অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনে পুলিশ।

‎মামলার বিবরণে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৮ অগাস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

‎সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই একদল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।

‎একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

‎আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হওয়া লতিফ সিদ্দিকী ছাড়া বাকি ১৫ জন হলেন মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩), শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন (৫৫), মঞ্জুরুল আলম (৪৯), কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল (৭২), গোলাম মোস্তফা (৮১), মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু (৬৪), মো. জাকির হোসেন (৭৪), মো. তৌছিফুল বারী খান (৭২), মো. আমির হোসেন সুমন (৩৭), মো. আল আমিন (৪০), মো. নাজমুল আহসান (৩৫), সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬), মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (৬৪), দেওয়ান মোহম্মদ আলী (৫০), মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)।

‎এই মামলায় পরে সাবেক সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম ও আবু আলম শহীদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ আদালত লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদন নাকচ করলে তার আইনজীবী হাই কোর্টে আবেদন করেন। বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৬ নভেম্বর লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

‎এরপর জামিন বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের আপিল বেঞ্চ ১০ নভেম্বর জামিন বহাল রাখেন। জামিনের নথিপত্র পৌঁছানোর পর ১২ নভেম্বর কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান লতিফ সিদ্দিকী।

You may also like

Leave a Comment