Home সারাদেশহাদির অফিসে ‎যাওয়া কবির ফের ৫ দিনের রিমান্ডে

হাদির অফিসে ‎যাওয়া কবির ফের ৫ দিনের রিমান্ডে

by The Desh Bangla
০ comments

‎ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে একাধিকবার হাদির অফিসে যাওয়া মো. কবিরের ফের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

‎‎গত ১৫ ডিসেম্বর নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে কবির গ্রেপ্তার হয়। পরের দিন সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

‎রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তার পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর ফয়সাল আহমেদ।

‎‎শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আসানি ফয়সালের সাথে এ আসামি একাদিকবার হাদির অফিসে যায়। তিনি হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। আরও তথ্য বাকি আছে। কিছু তথ্য এড়িয়ে গেছে।’

‎‎শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘এ আসামি ফয়সালের সাথে কয়েকবার হাদির কালচারাল সেন্টারে যায়। আর যে মোটর সাইকেল ব্যবহৃত হয়েছে, সেটা তার নামে কেনা। দুইটি বিষয় সামনে রেখে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। যদিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি প্রধান আসামি ফয়সাল দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে কি না। হয়তো আসামি দেশেই আছে। অনেক সময় আসল ঘটনা পাশ কাটানোর জন্য নতুন ঘটনার সৃষ্টি করা হয়। সুতরাং তার বাইরে থাকা বা ভেতরে থাকা দুটো বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত হচ্ছে। তাই তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’

‎কবিরের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত তার কোনো বক্তব্যও শোনেননি। পরে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

‎‎এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটিতে ৩০২ ধারা যুক্ত হয়েছে।

‎মামলার পর নয়জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আসামিরা হলেন ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম। এদের মধ্যে হুমায়ুন ও হাসি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ড শেষে নুরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।অপর আসামিরা রিমান্ডে রয়েছে।

‎জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন।

‎চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়।

‎গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’ বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

‎সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে বৃহস্পতিবার মারা যান হাদি।

You may also like

Leave a Comment