ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলেও সংবিধান সংস্কার এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণের অভিযোগ তুলেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এসব দাবিতে আগামী এপ্রিল মাস থেকে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জোটটি। তাদের দাবি, সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বের নীতি লঙ্ঘন করে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
১১ দলীয় ঐক্যের অভিযোগ, দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে দলীয় অনুগত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং এটি ভবিষ্যতের ‘পাতানো নির্বাচনের’ আগাম প্রস্তুতি। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম যোগ করেন, নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য চরম অবমাননাকর।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার ‘ভোট নয়, নিয়ন্ত্রণ’—এই নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে পড়েছে। তিনি মনে করেন, যে গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে, এখন তারাই স্থানীয় সরকারকে জনগণের হাত থেকে সরিয়ে নিয়োগনির্ভর কাঠামোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একইভাবে আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি)-এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
তফসিল ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে সরকারের ধীরগতির কারণে বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জানা গেছে, আগামী ২৮ মার্চ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা এক বৈঠকে বসবেন, যেখান থেকে আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে বিরোধী জোট মাঠে নামলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
