দুর্নীতি, ঋণ কেলেঙ্কারি ও অর্থপাচারের অভিযোগে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইডি ও অন্যান্য তদন্ত সংস্থার আবেদনের পর রাজধানীর আদালত সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২ (এপিএস) গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর স্ত্রী রহিমা আক্তারের কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ২৯টি ফ্ল্যাটবিশিষ্ট ১০ তলা ভবন জব্দের আদেশ দিয়েছেন। দুদকের আবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে ক্রোককৃত জমির ওপর নির্মিত ভবনটি মালিকানা হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছিল। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ভবনটি জব্দ করা জরুরি হয়ে পড়ে। এর আগে একই আদালত রহিমা আক্তারের গোপালগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে থাকা ৫৭ বিঘা জমি, একটি গাড়ি এবং চারটি কোম্পানির শেয়ার জব্দের আদেশ দেন।
একই দিনে আদালত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্টদের চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় থাকা প্রায় ৪৩১ দশমিক ৬৯ শতাংশ জমি ও স্থাপনা অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন। দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাইফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে বিধিবহির্ভূত ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করে দেশ-বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুসন্ধান চলাকালে এসব সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা চালায় জরুরি ভিত্তিতে জব্দের প্রয়োজন দেখা দেয়।
অন্যদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, তার স্ত্রী ও দুই কন্যার নামে থাকা ৪১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। সিআইডির আবেদনে বলা হয়, এসব হিসাবে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অর্থপাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব হিসাব অবরুদ্ধ রাখা প্রয়োজন।
এদিকে চট্টগ্রামে কৃষক, দিনমজুর ও দর্জিদের ব্যবসায়ী সাজিয়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) বিভিন্ন শাখা থেকে ৪৭ কোটি টাকা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে সাতটি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ মোট ৯৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভুয়া ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে হিসাব খুলে জাল কাগজপত্র ও মিথ্যা যাচাই প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা, শাখা ব্যবস্থাপক ও ক্রেডিট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশের প্রমাণ মিলেছে।
দুদক জানিয়েছে, এসব ঘটনায় দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে এবং অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
