বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনয়শিল্পী তাহসান রহমান খান। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে- তাহসান ও রোজা আহমেদের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ইতি টানা হয়েছে গত বছরের শেষ দিকেই। বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বলেই দেখছেন তাহসান। এ নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কথা বলতে নারাজ এই শিল্পী।
তবে ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর দুজনের জীবনদর্শন ও প্রত্যাশার জায়গায় কিছু মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, তাহসান চেয়েছিলেন তার জীবনের এই অধ্যায়টি হবে আরও ব্যক্তিগত ও নিরিবিলি। সেই লক্ষ্যেই তিনি বিনোদন অঙ্গন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষ্ক্রিয় করার মতো সিদ্ধান্ত নেন। সংসারকেই জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চেয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রূপসজ্জাশিল্পী রোজা আহমেদের পরিচিতি ও সামাজিক পরিসর বিয়ের পর আরও বিস্তৃত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, নতুন এই জীবন ও পরিচিতিকে রোজা বেশ উপভোগ করছিলেন।
জীবনযাপনের এই দুই ভিন্ন ধারা ও মানসিক অবস্থানই ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে। শুরুতে সেই দূরত্ব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হলেও একসময় মতের অমিলগুলো প্রকট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তিক্ততা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকেই কাউকে দোষারোপ না করে সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় সংগীতসফরে যাওয়ার আগেই তাহসান ও রোজা আলাদা থাকতে শুরু করেন। সফরের সময় মেলবোর্ন থেকেই তাহসান জানিয়েছিলেন গান ছেড়ে দেওয়ার এবং নিজেকে আড়ালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা।
সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি চাই মানুষ আস্তে আস্তে আমাকে ভুলে যাক।’
সম্প্রতি তাহসান জানিয়েছেন, ওই বক্তব্য দেওয়ারও আগে থেকেই তাদের আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল।
বিচ্ছেদের বিষয়টি গত ১০ জানুয়ারি তাহসান নিজেই নিশ্চিত করেন। অথচ ঠিক এক বছর আগেই এই বিয়ের খবরটি ছিল বিনোদন অঙ্গনের বড় চমক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টানা কয়েক দিন ট্রেন্ডিংয়ে থাকা সেই সম্পর্কের এমন দ্রুত সমাপ্তিতে ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা হতবাক।
যদিও রোজা আহমেদ বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাহসানের সঙ্গে তোলা ছবি ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করতেন, যা দেখে অনেকের ধারণা ছিল সম্পর্কটি এখনও টিকে আছে। তবে ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্যে, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।
এটি ছিল তাহসানের দ্বিতীয় বিয়ে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই সংযত ও অন্তর্মুখী এই শিল্পী বর্তমান পরিস্থিতিতেও নীরবতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, বিচ্ছেদ হলেও বিষয়টি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে মিটেছে। নতুন করে এক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কোনো অভিযোগ বা অনুযোগ নয়; বরং জীবন ও বাস্তবতার প্রয়োজনে ভিন্ন পথে এগোনোকেই শ্রেয় মনে করেছেন তারা।
