যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বলা হয়েছে যে দেশকে একটি শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে হবে। এই পরিকল্পনার শর্ত অনুযায়ী ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ছাড়তে হবে, অস্ত্র হ্রাস করতে হবে এবং সামরিক বাহিনী কমাতে হবে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার প্রণয়ন বা চূড়ান্তকরণের কাজে ইউক্রেন সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৯ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র জেলেনস্কিকে এই শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। এই সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আঙ্কারায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। বৈঠকের পর জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কিয়েভে বৈঠক করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হলো, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং রাশিয়ার আক্রমণ শেষ করতে ইউক্রেনকে শান্তি পরিকল্পনায় যুক্ত করা।
রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনার প্রণয়নে গোপনে রাশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করেছে। পরিকল্পনাটি মোট ২৮ দফার এবং এটি পূর্ণমাত্রার রাশিয়ার আক্রমণ শেষ করতে সহায়তা করবে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রতিনিধি কিরিল ডিমিট্রিভ এই পরিকল্পনার মূল প্রণেতা।
ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরিকল্পনার শর্ত অনুযায়ী ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী অর্ধেক কমাতে হবে। ইউক্রেনকে ডনবাসের বাকি অংশ ছাড়তেও হবে, যার মধ্যে কিয়েভ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এলাকা রয়েছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ান ভাষাকে সরকারী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং রাশিয়ান অর্থডক্স চার্চকে সুরক্ষিত মর্যাদা দেওয়া হবে।
এর আগে অ্যাকসিওস জানায়, উইটকফ ইউক্রেনের সঙ্গে তুরস্কে বৈঠক করার জন্য নির্ধারিত ছিলেন, কিন্তু সেই বৈঠক স্থগিত করা হয়। সূত্রের খবর, পরিকল্পনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আলাস্কা শীর্ষ বৈঠকের নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।