Home আন্তর্জাতিকযুদ্ধবিরতির সুযোগে গাজায় ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেবে ডব্লিউএইচও

যুদ্ধবিরতির সুযোগে গাজায় ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেবে ডব্লিউএইচও

by The Desh Bangla
০ comments

দীর্ঘদিন ধরে চলা গাজা-ইসরাইল সংঘাতের মধ্যে শিশুরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সময়ে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) শিশুদের জীবন রক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটি ঘোষণা করেছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সুযোগে তারা গাজার ৪০ হাজারেরও বেশি শিশুকে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে টিকা দেবে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, প্রথম ধাপের কার্যক্রম ৯ নভেম্বর শুরু হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য—তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া। যুদ্ধবিরতি থাকায় সংস্থা শিশুদের জরুরি টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে পারছে। এই উদ্যোগের ফলে গাজার ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনরায় শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পুনঃসংস্থান করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রথম ধাপের আট দিনে তিন বছরের কম বয়সী ১০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি শনিবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শিশুরা হাম, মাম্পস, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশি, হেপাটাইটিস বি, যক্ষ্মা, পোলিও, রোটাভাইরাস ও নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাচ্ছে।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ পরিচালিত হবে। এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে ইউনিসেফ, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘ সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) এবং হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। টেড্রোস বলেছেন, “যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকায় আমরা উৎসাহিত। এতে গাজায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পুনঃসংস্থান এবং বিধ্বস্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার পক্ষে ভোট দিয়েছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে গত ১০ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের রক্তক্ষয়ী হামলার পর থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত চলায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, ইসরাইলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ৫০০’র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই সংখ্যাকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু ও নারী। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র : এএফপি

You may also like

Leave a Comment