চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার পর তিনি ট্রাইব্যুনালে এসে পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ ও ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ।
ঠিক কোন মামলায় জবানবন্দি দেবেন তা ভিপি সাদিক কায়েম তাৎক্ষণিকভাবে জানাননি, তবে পরে বিস্তারিত জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি মাকসুদ কামালসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় তিনি জবানবন্দি দিতে পারেন।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘‘শেখ হাসিনার নির্দেশে বহিরাগতদের নিয়ে আমাদের ভাই-বোনদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করেছেন তৎকালীন ভিসি মাকসুদ কামাল। আহত হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময়ও দফায় দফায় হামলা চালিয়েছিল ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। এই যে হাসিনার প্রশাসন যাদের ইন্ধনে আমাদের ভাই-বোনদের শহীদ করা হয়েছে, রক্তাক্ত করা হয়েছে; তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে এসেছি। সাক্ষ্য দেওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।’’
আজ ট্রাইব্যুনালে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার অগ্রগতি ছিল: কুষ্টিয়ার হত্যা মামলা: ট্রাইব্যুনাল-২ এ কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। সাক্ষীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে এই মামলার প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি ক্যামেরা ট্রায়ালে নেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য এক মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে। এই মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই মামলার শুনানি হবে। গত ২৬ অক্টোবর এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জিয়াউল আহসানসহ আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়েছিল।