Home আন্তর্জাতিকবিদায়ী বছরে বিশ্বের আলোচিত ১০

বিদায়ী বছরে বিশ্বের আলোচিত ১০

by The Desh Bangla
০ comments

দরোজায় কড়া নাড়ছে নতুন বছয়। সময় এসেছে বিদায়ী বছরের আলোচিত ঘটনাগুলোতে চোখ রাখার । আসুন, এক নজরে দেখে নেই ২০২৫ সালে বিশ্বের ১০টি আলোচিত বিষয় বা ঘটনা।

প্রথম আমেরিকান পোপ

২০২৫ সালের ৮ মে ভ্যাটিকানের সিস্টিন চ্যাপেল থেকে সাদা ধোঁয়া উঠে যায় বিকেল ৬টা ৭ মিনিটে, ঘোষণা করে নতুন পোপ নির্বাচিত হয়েছেন। কনক্লেভের দ্বিতীয় দিনে, চতুর্থ ব্যালটে শিকাগোতে জন্মগ্রহণকারী কার্ডিনাল রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভোস্ট (৬৯) নির্বাচিত হন ক্যাথলিক চার্চের ২৬৭তম পোপ হিসেবে। তিনি নাম নেন পোপ লিও চতুর্দশ- ইতিহাসে প্রথম আমেরিকান পোপ। পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর (২১ এপ্রিল) মাত্র ১৭ দিন পর এই নির্বাচন অপ্রত্যাশিত ছিল, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মতো সুপারপাওয়ার থেকে পোপ নির্বাচনের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হতো। লিও চতুর্দশ পেরুতে দীর্ঘ মিশনারি কাজ করেছেন এবং অগাস্টিনিয়ান অর্ডারের প্রধান ছিলেন। তার প্রথম বার্তা ছিল ‘শান্তি তোমাদের সঙ্গে’, এবং তিনি ফ্রান্সিসের উত্তরাধিকারী হিসেবে গরিব, অভিবাসী ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে, ডিসেম্বর ২০২৫-এ লিও চতুর্দশ সক্রিয়ভাবে পন্টিফিকেট পরিচালনা করছেন। তিনি ফ্রান্সিসের সংস্কার অব্যাহত রেখেছেন, যেমন- নারীদের ভ্যাটিকান কমিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুমতি, চায়নিজ বিশপ নিয়োগ এবং যুব জুবিলি উদযাপন। নভেম্বরে তুরস্ক-লেবানন সফর করেন এবং ক্রিসমাসে শান্তি ও অভিবাসীদের প্রতি সহানুভূতির বার্তা দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতিকে ‘অমানবিক’ বলে সমালোচনা করেছেন, যা তার স্বাধীনতা দেখায়। চার্চে ঐক্য, শান্তি ও সামাজিক ন্যায়ের ওপর জোর দিয়ে তিনি বিশ্বের ১.৪ বিলিয়ন ক্যাথলিকের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা

২০২৫ সালের মে মাসের শুরুতে কাশ্মীর সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা দেখা যায়, যা চার দিনের সংঘর্ষে পরিণত হয়। ভারতীয় মিসাইল হামলায় পাকিস্তানের তিনটি এয়ারবেস লক্ষ্যবস্তু হয়, যার ফলে উভয় পক্ষ থেকে বোমা হামলা এবং আর্টিলারি ফায়ার চলে। এদিকে ভারতের রাফায়ালকে ঘায়েলের খবরও প্রকাশিত হয়। এটি দশকের সবচেয়ে গুরুতর সংঘাত ছিল, যাতে নিউক্লিয়ার-সজ্জিত দুই প্রতিবেশীর মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ১০ মে ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লিতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিতে স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা ১৭:০০ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম থেকে কার্যকর হয়। ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের বিবৃতিতে এটি নিশ্চিত করা হয় এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এটিকে স্বাগত জানান। এই চুক্তি কাশ্মীরের দীর্ঘদিনের বিরোধ সমাধানের দিকে একটি ধাপ হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে, ডিসেম্বর ২০২৫-এ এই যুদ্ধবিরতি ভালোভাবেই টিকে আছে, কিন্তু সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি। সীমান্তে ছোটখাটো লঙ্ঘনের খবর এসেছে, যা কাশ্মীরের মূল বিরোধের কারণে উত্তেজনা বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস রিপোর্টে এটিকে ‘অ্যানিজি’ বলা হয়েছে এবং উভয় দেশকে আরও আলোচনায় উৎসাহিত করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে তাদের সাফল্যের তালিকায় রেখেছে, কিন্তু ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি।

কাতারে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে কাতারের রাজধানী দোহার লেকতাইফিয়া জেলায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এটি ছিল হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি আবাসিক কম্পাউন্ডে হামলা, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসেছিল। হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং একজন কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন, কয়েকজন আহত হন। প্রধান নেতারা বেঁচে যান। এটি গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) কোনো সদস্য দেশে ইসরায়েলের প্রথম সরাসরি হামলা, যা কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে। কাতার এটিকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে নিন্দা করে, আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশ এটি নিন্দা করে, যা গাজা যুদ্ধের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে। বর্তমানে, ডিসেম্বর ২০২৫-এ উত্তেজনা কমেছে, কিন্তু প্রভাব অব্যাহত। সেপ্টেম্বরের শেষে নেতানিয়াহু কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চান, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। কাতার হামাসের দোহা অফিসের ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা করছে এবং মধ্যস্থতা ভূমিকা স্থগিত করেছে। তবে গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা চলছে, যদিও এই হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ল্যুভর মিউজিয়ামে রত্ন চুরি

২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টায় প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামে এক অভূতপূর্ব চুরির ঘটনা ঘটে। চারজনের একটি কমান্ডো দল, নির্মাণকর্মীদের ছদ্মবেশে, একটি চুরি করা ট্রাকের সাহায্যে মেকানিক্যাল ল্যাডার ব্যবহার করে গ্যালারি দ্য অ্যাপোলোর দোতলার জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। মাত্র ৭-৮ মিনিটের মধ্যে তারা ভাঙা ডিসপ্লে কেস থেকে ফরাসি ক্রাউন জুয়েলসের ৮টি অমূল্য রত্ন (মূল্য প্রায় ৮৮ মিলিয়ন ইউরো) নিয়ে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে ছিল নেপোলিয়নের দ্বিতীয় স্ত্রী মারি-লুইসের এমারাল্ড নেকলেস (১০০০-এর বেশি ডায়মন্ডসহ), এমপ্রেস ইউজেনির পার্ল ডায়াডেম এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক গয়না। পালানোর সময় তারা ইউজেনির ক্রাউন ফেলে যায়, যা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়। এটি ল্যুভরের ১৯৯৮ সালের পর প্রথম বড় চুরি এবং বিশ্বের সবচেয়ে পরিদর্শিত মিউজিয়ামের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়।

বর্তমানে, ডিসেম্বর ২০২৫-এ চুরির তদন্ত চলছে, কয়েকজন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হয়েছে (কমান্ডো দলের চার সদস্যসহ আরও কয়েকজন), কিন্তু চুরি হওয়া ৮টি রত্ন এখনও উদ্ধার হয়নি। ল্যুভর নিরাপত্তা জোরদার করেছে- জানালায় লোহার গ্রিল লাগানো হয়েছে, ক্যামেরা বাড়ানো হয়েছে এবং অন্যান্য মূল্যবান রত্ন ব্যাংক অব ফ্রান্সে স্থানান্তরিত। তদন্তে ডিএনএ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু রত্নগুলো সম্ভবত ভেঙে ফেলা বা পাথর কেটে বিক্রি করা হয়েছে বলে আশঙ্কা। এই ঘটনা ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বড় আঘাত হিসেবে রয়ে গেছে।

আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনা

২০২৫ সালের ১২ জুন দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডন গ্যাটউইকের উদ্দেশে উড়ে যায় এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই১৭১। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারে ছিল ২৩০ যাত্রী এবং ১২ ক্রু- মোট ২৪২ জন। টেকঅফের মাত্র ৩২ সেকেন্ড পর বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিজে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেল বিল্ডিংয়ে আছড়ে পড়ে। এতে বিমানে থাকা ২৪১ জনের মৃত্যু হয়, একমাত্র বেঁচে যান ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বাসকুমার রমেশ (সিট ১১এ)। মাটিতে আরও ১৯ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়- মোট মৃতের সংখ্যা ২৬০। এটি বোয়িং ৭৮৭-এর প্রথম মারাত্মক দুর্ঘটনা এবং এই দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। বর্তমানে, ডিসেম্বর ২০২৫-এ তদন্ত চলছে। জুলাইয়ের প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা গেছে, টেকঅফের তিন সেকেন্ড পর দুটি ইঞ্জিনের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ ‘রান’ থেকে ‘কাটঅফ’-এ চলে যায়, যার ফলে থ্রাস্ট হারিয়ে বিমান পড়ে যায়। এর কারণ এখনও নিশ্চিত নয়- ইলেকট্রিক্যাল ফল্ট, পাইলট এরর নাকি ইচ্ছাকৃত। নভেম্বরে আমেরিকান তদন্তকারীরা পাইলটের দিকে সন্দেহ করলেও ভারতীয় পক্ষ এবং পাইলট সমিতি তা প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তদন্তের বিতর্ক অব্যাহত।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ

২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডোনাল্ড জে ট্রাম্প। এটি ছিল তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু, যা ঐতিহাসিকভাবে বিরল। উচ্চ নিরাপত্তা ও শীতল আবহাওয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে শপথ নেন তিনি। উদ্বোধনী ভাষণে ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি দক্ষিণ সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু হলো। এই শপথ অনুষ্ঠান সমর্থকদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, যা ২০২৪ নির্বাচনী জয়ের ধারাবাহিকতা বহন করে।

বর্তমানে, ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আছেন এবং সক্রিয়ভাবে শাসন পরিচালনা করছেন। তার প্রশাসন ২২৫টিরও বেশি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তায় ফোকাস করেছে। সীমান্তে অবৈধ প্রবেশ রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে, অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। তবে বিতর্কও কম নয়, যেমন- নৌবাহিনীর নতুন যুদ্ধজাহাজের নামকরণ বা কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তি। সামগ্রিকভাবে তার শাসন যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন দিশায় নিয়ে যাচ্ছে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অবিচল থেকে।

ডিপসিক এআইয়ের উত্থান

২০২৫ সালের জানুয়ারির শুরুতে চীনা স্টার্টআপ ডিপসিক (DeepSeek) একটি লো-কস্ট এআই চ্যাটবট লঞ্চ করে, যা ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির মতো পারফরম্যান্স দেয় কিন্তু মাত্র ৫৬০ মিলিয়ন ডলার খরচে এবং কম কম্পিউটিং পাওয়ারে। এই মডেল, ডিপসিক-আর১ এবং ডিপসিক-ভি৩, ওপেন সোর্স এবং রিজনিং-ভিত্তিক, যা চীনা হেজ ফান্ড হাই-ফ্লায়ার দ্বারা ফান্ডেড। ২৭ জানুয়ারি এর ফলে বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটে : নাসডাক ৩.১% পড়ে, এনভিডিয়া ১৭% হারায় এবং ৫৯৩ বিলিয়ন ডলার মার্কেট ক্যাপ লস করে- ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একদিনের লস। মোট ১ ট্রিলিয়ন ডলারের লস হয় টেক স্টকসে, যা এআইয়ের ‘স্পুটনিক মোমেন্ট’ বলে আখ্যায়িত হয়। এটি ইউএস এআই ডমিন্যান্স নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।

বর্তমানে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এসে শেয়ারবাজার অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে এবং সারাবছরই শেয়ারের দাম ভালো বাড়তি দেখিয়েছে। ডিপসিকের আঘাত সত্ত্বেও বড় বড় টেক কোম্পানিগুলো এআইতে বিপুল বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে, যেমন- মাইক্রোসফট ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং মেটা ৬০-৬৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করছে অবকাঠামো গড়তে। এনভিডিয়ার মতো কোম্পানি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং নতুন প্রযুক্তিতে জোর দিচ্ছে।

এখন বিশ্বজুড়ে এআই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্য কিছুটা কমেছে; ইউরোপ, এশিয়া ও উদীয়মান দেশগুলোর বিনিয়োগকারীরা ভালো ফল পাচ্ছেন। ডিপসিকের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনও পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না, তবে এটি সবাইকে শিখিয়েছে যে, এআইয়ের জগতে নতুন চমক আসতেই পারে। বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ- ধৈর্য ধরে লেগে থাকুন, প্যানিক করবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ

২০২৫ সালের ২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪২৫৭ সই করে বিভিন্ন দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর প্রতিশোধমূলক ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দেন। এতে প্রায় সব দেশের আমদানিতে ১০% বেসলাইন ট্যারিফ চাপানো হয়, যা বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা সংশোধনের লক্ষ্যে। দেশভিত্তিক উচ্চতর রেট (যেমন- কয়েকটিতে ৫০% পর্যন্ত) নির্ধারণ করা হয়, যা ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর। লক্ষ্য ছিল জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষা, কিন্তু ৯ এপ্রিল দেশভিত্তিক রেটগুলো ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করে সর্বজনীন ১০% করা হয়, চীনের ক্ষেত্রে মোট ১২৫% (পরবর্তীতে সংশোধিত)। এতে ভোক্তা পণ্য, অটোমোবাইল, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়ামসহ সবকিছু প্রভাবিত হয়, যা বিশ্ববাণিজ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে

বর্তমানে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই ট্যারিফগুলো বেশির ভাগই চালু রয়েছে, গড়ে ১৭% হারে, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২১% পর্যন্ত যায়। জুলাইয়ে ১০০-এর বেশি দেশের রেট বাড়ানো হয়েছে; যেমন- কানাডা ৩৫%, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৫%, ভারত ৫০%, মেক্সিকো ৩০%। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও আলোচনায় কিছু দেশের ট্যারিফ কমানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, চীনের প্রথমে ১২৫% ছিল, এখন ৪৭% বা কিছু পণ্যে ১০%-এ নেমেছে। ব্রাজিল ৫০% থেকে ১০%-এ, যুক্তরাজ্য ১০%-এ রয়েছে। এ ছাড়া ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, ইন্ডিয়ার কিছু পণ্যে (যেমন- গাড়ি, ইথানল, ইলেকট্রনিকস) ট্যারিফ কমিয়েছে, যা প্রথম আরোপিতের চেয়ে অনেক কম। খাদ্যপণ্য যেমন- কফি, কলা, কোকো, মাংসের ওপরও এক্সেম্পশন দেওয়া হয়েছে, যা লাতিন আমেরিকা (যেমন- কোস্টা রিকা, ইকুয়েডর) ও আফ্রিকার (যেমন- ঘানা, আইভরি কোস্ট) দেশগুলোর জন্য সুবিধা হয়েছে- প্রথমের চেয়ে কম দিচ্ছে এরা।

মিয়ানমারে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প

২০২৫ সালের ২৮ মার্চ দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার পরপরই ৬.৪ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়। এপিসেন্টার ছিল ম্যান্ডালে থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে সাগাইং ফল্ট জোনে। এতে মিয়ানমারে ৫,৩৫২ জনের প্রাণহানি ঘটে, থাইল্যান্ডে ১০৩ এবং ভিয়েতনামে ১ জন মারা যায়। আহত হয় ১১,৪০৪ জনেরও বেশি এবং শতাধিক লোক নিখোঁজ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৫৪ মিলিয়ন মানুষের জীবনযাত্রা, যার মধ্যে সাগাইং, ম্যান্ডালে, নায়পিদো, বাগো, মাগওয়ে এবং শান স্টেট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের জিডিপির ১৪%। এটি এক শতাব্দীর মধ্যে মিয়ানমারের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প। বর্তমানে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এসে মিয়ানমারে ভূমিকম্পের পর পুনরুদ্ধারের কাজ এখনও চলছে, কিন্তু অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আইওএমের ফ্ল্যাশ অ্যাপিল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে, যাতে ৩১.৭ মিলিয়ন ডলার সাহায্যের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কিছু অংশ সংগ্রহ হয়েছে। রেড ক্রস, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সংস্থা ত্রাণ বিতরণ, ঘর পুনর্নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বন্যা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে পুনর্গঠনের কাজ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তবু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লোকজনের পুনর্বাসন ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।

নেপালে জেনজি বিদ্রোহ

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেনজি (জেনারেশন জেড) নেতৃত্বাধীন ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা দ্রুত সরকার পতনে রূপ নেয়। ৪ সেপ্টেম্বর সরকার অসংখ্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম (ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স, হোয়াটসঅ্যাপসহ) নিষিদ্ধ করে, যা দুর্নীতি ও রাজনীতিকদের পরিবারের বিলাসী জীবনযাপনের (#NepoKids) ভাইরাল সমালোচনা দমনের চেষ্টা বলে দেখা হয়। যুবকরা ডিসকর্ড, টিকটকের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করে। ৮ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুতে পুলিশের গুলিতে ১৯ জন নিহত হলে আন্দোলন হিংসাত্মক হয়- পার্লামেন্ট, সুপ্রিম কোর্টসহ সরকারি ভবন পোড়ানো হয়। মোট ৭০ জনের বেশি মানুষ মারা যায়। ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন।

বর্তমানে, ডিসেম্বর ২০২৫-এ সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন- নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি দুর্নীতি তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন এবং মার্চ ২০২৬-এ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে পরিবর্তন ধীরগতির- পুরনো দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং কিছু জেনজি গ্রুপ নতুন দল গঠন করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে, কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষতি (প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার) এবং যুব বেকারত্বের সমস্যা অব্যাহত। আন্দোলন নেপালের রাজনীতিতে যুব শক্তির উত্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

You may also like

Leave a Comment