বগুড়ার কৈপাড়া বকুলতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে রোববার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাফিয়া আক্তার শম্পা (২০) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রেমের সম্পর্কের জেরে মাত্র দুই মাস আগে রিয়াজুল জান্নাত নাফিসের সঙ্গে বিয়ে করেছিলেন তিনি। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনলেও শেষ পর্যন্ত সেই সংসারেই ঘটল তার মর্মান্তিক মৃত্যু।
নিহত রাফিয়া কাহালু উপজেলার শামন্তাহার পোড়াপাড়া এলাকার আনারুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তার স্বামী রিয়াজুল জান্নাত নাফিসকে (বাঘবাড়ি, গাবতলী) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
রাফিয়ার মা সাবিনা আক্তার জানান, সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে মেয়ের কাছ থেকে জীবন বাঁচানোর আকুতি আসে। দ্রুত ছুটে গিয়ে তারা দেখতে পান, রাফিয়াকে গলায় ফাঁস দিয়ে জানালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ—রিয়াজুল প্রায়ই টাকার জন্য তাকে নির্যাতন করত এবং সেই নির্যাতনেরই পরিণতি এই মৃত্যু।
রাফিয়ার চাচা ইলান আলী জানান, ঘটনার প্রায় ২০ মিনিট আগে রাফিয়া তার বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান। পরে স্থানীয়রা রিয়াজুলকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে রাফিয়া গুরুতর আহত হন। কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী রিয়াজুলকে আটক করে। তাদের দাবি—নির্যাতন ও সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ওসি মো. হাসান বাসির বলেন, “এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এখনই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। রিয়াজুলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে সঠিক কারণ জানা যাবে।”
পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যা এবং রিয়াজুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে তারা।
পুলিশ ঘটনার নেপথ্যের বাস্তব কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।