নোয়াখালী জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলার ওছখালী জিরো পয়েন্টে। এতে প্রধানত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এবং হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুল আজিমের অনুসারীরা জড়িত ছিলেন।
আজিম অনুসারী এবং হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুল আজিমের অনুসারীরা নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের প্রার্থীতা পরিবর্তনের দাবিতে ওছখালী বাজারে মশাল মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “সন্ধ্যার দিকে উপজেলার তমরদ্দি থেকে আজিম অনুসারী বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিলে যোগ দিতে তার ওছখালীর বাড়ির দিকে আসছিলেন। সে সময় শামীম অনুসারীরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে সাবেক সাংসদ আজিম অনুসারী প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।”
তিনি আরও জানান, এর প্রতিক্রিয়ায় আজিম অনুসারী নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে শামীম অনুসারীদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়, যার ফলে শামীম অনুসারীরা পিছু হটতে বাধ্য হন। বর্তমানে আজিম অনুসারী প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
অন্যদিকে, শামীম অনুসারী এবং হাতিয়া পৌরসভা যুবদলের সদস্য সচিব কাউছার মোস্তফা বলেন, “ওছখালী বাজারের রেডট্রি হোটেলের সামনে থেকে ধানের শীষ মার্কার সমর্থনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করে। ঠিক তখনই আজিম অনুসারী নেতাকর্মীরা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে একটি মিছিল নিয়ে ওছখালি বাজারে আসে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “একপর্যায়ে ওছখালি বাজার মোড়ে দুটি মিছিল মুখোমুখি হয়ে গেলে আজিম অনুসারী নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ১০-১২ জন নেতাকর্মী আহত হন।”
কাউছার মোস্তফা আরও অভিযোগ করেন যে, আজিম অনুসারীরা শামীম অনুসারী হাতিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোকারম বিল্লাহ শাহদাতের বাসায় হামলা চালায় এবং ছররা গুলি ছোড়ে। এছাড়া, তারা সড়কে শামীম অনুসারীদের কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তবে আহত হওয়ার কোনো সংবাদ নেই।”