নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে বৈধ ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ১৮ জনই কোটিপতি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব প্রার্থীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য কোটি টাকা বা তার বেশি। প্রার্থীদের পেশা, রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘোষিত সম্পদের অঙ্কে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। কোটিপতি প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত রয়েছেন ৫ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩ জন এবং বাকি ৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত।
হলফনামা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী নেতা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জামাল আহম্মেদ চৌধুরী। তিনি পেশা হিসেবে বাড়ি ভাড়া ও কৃষি দেখিয়েছেন এবং নিজেকে স্বশিক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন। তার ঘোষিত অস্থাবর সম্পদ ১০ কোটি ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯২ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ১৫০ কোটি টাকা। শুধু নগদ অর্থই রয়েছে ৯ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার ৬২২ টাকা। তার নিজের ৫০ ভরি এবং স্ত্রীর ২০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে।
নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুর এলাহীর মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ২৪ কোটি ৪৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকার বেশি। এর মধ্যে নগদ অর্থ ২ কোটি ১০ লাখ টাকারও বেশি। তার স্ত্রীর সম্পদ রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং পরিবারটির স্বর্ণালংকার ১৩০ ভরি।
নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের বিএনপি প্রার্থী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের মোট সম্পদ ১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি। এর বড় অংশই স্থাবর সম্পদ। তার স্ত্রীর সম্পদ রয়েছে ৩ কোটির বেশি।
নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. আশরাফ উদ্দিনের মোট সম্পদ ৭ কোটি ৫১ লাখ টাকার বেশি। তার স্ত্রীর ঘোষিত সম্পদ এর চেয়েও বেশি-৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
নরসিংদী-১ (সদর) আসনের প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনের মোট সম্পদ ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি। তার স্ত্রীর সম্পদ প্রায় ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের ঘোষিত সম্পদ ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বেশি হলেও তার স্ত্রীর সম্পদ ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বদরুজ্জামান উজ্জলের সম্পদ ৫ কোটির বেশি। একই আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী তাজুল ইসলামের সম্পদ তুলনামূলক কমÑ ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
জাতীয় পার্টির মেহেরুন নেছা খাঁন হেনা নিজেকে গৃহিণী উল্লেখ করলেও তার ঘোষিত সম্পদ প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের হামিদুল হক পারভেজ (নরসিংদী-১) পেশায় কৃষক হলেও তার সম্পদ ১ কোটির বেশি। একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. ইব্রাহিম ভূঞার সম্পদ প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী শিরিন আক্তারের ঘোষিত সম্পদ প্রায় ৬ কোটি ২২ লাখ টাকা।
নরসিংদী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আরিফ-উল-ইসলাম মৃধার সম্পদ ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। একই আসনে ইসলামী আন্দোলনের মো. ওয়ায়েজ হোসেন ভূইয়ার সম্পদ ২ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি, যার বড় অংশ নগদ অর্থ।
নরসিংদী-৪ আসনে জনতার দলের আবু দার্দ্দা মো. মা’জ-এর সম্পদ প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। একই আসনে জামায়াতের মো. জাহাঙ্গীর আলমের সম্পদ ২ কোটির বেশি এবং জাতীয় পার্টির মো. কামাল উদ্দিনের সম্পদ ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী নরসিংদীর নির্বাচনী মাঠে বিপুল অর্থসম্পদের প্রার্থীর আধিক্য স্পষ্ট। পেশা হিসেবে কৃষক, শিক্ষক বা গৃহিণী উল্লেখ করা হলেও অনেক প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে অর্থনৈতিক প্রভাব ও বৈষম্যের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে।
