Home রাজনীতিদেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করব

দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করব

by The Desh Bangla
০ comments

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচন নির্বিঘ্ন হোক, সুন্দর হোক ও গ্রহণযোগ্য হোক, আমরা এটা দোয়া করি। আজকেই এ বিষয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি এবং আমরা এটাও বলেছিÑ প্রিয় দেশের স্বার্থে অতীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আগামীতেও দেশের স্বার্থে ইনশা আল্লাহ আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সহমর্মিতা জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাতের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘তারেক রহমান সাহেবসহ বিএনপির নেতারা একই আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছেন; আমরাও একই আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছি। এমনকি আমরা এটাও বলেছি যে, পাঁচটা বৎসরের জন্য জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো কোনো চিন্তা করতে পারি কি না, সেটাও আমাদের চিন্তা করা দরকার।’ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এটাও বলেছি, নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগেই আমরা বসব, খোলা মনে কথা বলব। জাতির জন্য আমরা চিন্তা করব, জাতির জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মানুষ যে আবেগ ও ভালোবাসার সঙ্গে বিদায় জানিয়েছেন, তা সবার ভাগ্যে জোটে না বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। খালেদা জিয়াকে অনুসরণ করে অন্য রাজনীতিকদের দেশের জন্য অবদান রাখার কথাও বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন,‘আমরা একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করার জন্য এখানে এসেছিলাম। বেগম খালেদা জিয়া, তিনি তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর বাইরেও তাঁর একটি সংগ্রামী আপসহীন জীবন ছিল। তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। সেই লড়াই করতে করতে তাঁর শেষ জীবনটা অত্যন্ত বেদনাদায়কভাবে জেলেও একাকিত্বে কেটেছে। এই সময় যাঁরা দেশ শাসন করেছেন, তাঁরা তাঁর সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছেন।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তখন তাঁকে বিদেশে নেওয়ার জন্য দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। সরকার তো আমলে নেইনি, বরং এগুলো নিয়ে বারবার উপহাস করেছে।’ তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন, বিদেশেও গিয়েছেন, কিন্তু ততক্ষণে তাঁর বিশাল ক্ষতি হয়ে গেছে। সেই যে তিনি ব্রিটেন থেকে ফিরে এলেন। আর কিন্তু বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার মতো উপযুক্ত স্বাস্থ্য থাকল না। স্বাস্থ্যটা এতটাই ভেঙে পড়ল যে, শেষ চিকিৎসা তাঁকে দেশেই নিতে হয়েছে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘তিনি চলে গেছেন ইতিহাসের একটা বিরল সম্মান নিয়ে, তাঁর শেষ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল (বুধবার)। মানুষ আবেগ দিয়ে চোখের পানি দিয়ে তাঁকে বিদায় দিয়েছেন। এইটা তাঁর পাওনা ছিল। উনি জাতির জন্য যে অবদান রেখেছেন, তিনি তাঁর পাওনাটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে পেয়েছেন। তাঁর এই পাওনা দেখে আমরাও অনুপ্রাণিত হই।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরাও যদি জাতির জন্য সেরকমটা অবদান রাখতে পারি, হয়তো বা এ দেশের মানুষ আমাদেরকে এই রকমই একদিন বিদায় দেবেন। এটা সবার কপালে জোটে না। এই সম্মান পাওয়া, মানুষের চোখের পানি দিয়ে বিদায় পাওয়া বিশাল ব্যাপার।’

You may also like

Leave a Comment