দীর্ঘ দুই বছর পর নিজেদের ঐতিহ্যবাহী মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ফিরে এসে এক রাজকীয় ভঙ্গিতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিল বার্সেলোনা। অ্যাটলেটিক বিলবাওকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে লা লিগায় টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল কাতালান ক্লাবটি। এই জয়ে দুর্দান্ত জোড়া গোল করেন ফেরান তোরেস, আর জয়ের সূচনা করেন রবার্ট লেভানদোভস্কি।
নবায়ন কাজের কারণে দীর্ঘ বিরতির পর ন্যু ক্যাম্পে এটি ছিল বার্সেলোনার প্রথম ম্যাচ। ঘরের মাঠে ফিরে যেন সেই অপেক্ষার সব আক্ষেপ মুছে দিলেন রবার্ট লেভানদোভস্কি। ম্যাচের মাত্র চার মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সের বাইরে বল ধরে নিচু শটে বিলবাও গোলরক্ষক উনাই সিমোনকে পরাস্ত করে বার্সাকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন তিনি।
এরপর দানি ওলমো এবং লামিন ইয়ামালের শট বিলবাওয়ের রক্ষণ ও সিমোন রুখে দিলেও, বিরতির ঠিক আগে বার্সেলোনা দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেয়। হাফটাইমের পূর্বে ইয়ামালের দারুণ বাঁকানো পাস ধরে সুযোগ পান ফেরান তোরেস। তার নিচু শট সিমোন ছুঁয়ে দিলেও গোল ঠেকাতে পারেননি, ফলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় (২-০)।
বিরতির পর বার্সা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। মাত্র তিন মিনিটের মাথায় (৪৮ মিনিট) ফিরমিন লোপেজ দারুণ এক প্রচেষ্টায় সোজা শটে বার্সেলোনার হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন (৩-০)।
এরপর ম্যাচের ৫৪ মিনিটে বিলবাওয়ের দুর্ভাগ্য আরও বাড়ে। লোপেজের ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বিলবাওয়ের ওইহান সানসেট। বিলবাও পরিণত হয় ১০ জনের দলে।
বিলবাও এরপরও ডানি ভিভিয়ানের মাধ্যমে গোলের হুমকি তৈরি করেছিল, কিন্তু গার্সিয়া তার হেড রুখে দেন।
অবশেষে ম্যাচের শেষ শব্দটি লিখে দেন ফেরান তোরেস। খেলার ৯০ মিনিটে লামিন ইয়ামালের সূক্ষ্ম পাস ধরে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করেন তিনি (৪-০)।
ঘরের মাঠে দুই বছর পর ফিরে এসে তোরেস, ইয়ামাল ও লেভানদোভস্কিরা যেন গোলের আতশবাজিতেই সেই আনন্দ ফুটিয়ে তুললেন।