Home আইন-আদালততিন আসামি রিমান্ডে, একজনের স্বীকারোক্তি

তিন আসামি রিমান্ডে, একজনের স্বীকারোক্তি

by Akash
০ comments

রাজধানীর তেজতুরী বাজার এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আদালত তিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑ মো. বিল্লাল, মো. আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজ। গতকাল সোমবার ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ রিমান্ড আদেশ দেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার আরেক আসামি জিন্নাহ আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবিন্দ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিদর্শক আমিনুল, আদালতে আবেদন করেন তিন আসামির রিমান্ড এবং এক গ্রেপ্তারকৃত আসামি জিন্নাহের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য। ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক নেতা মুসাব্বির দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। মৃত্যুর আগের দিনও তিনি আদালতে হাজিরা দিয়েছিলেন। তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মুসাব্বিরের তিন ছোট সন্তান রয়েছে এবং মেইন শ্যুটার রহিম এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। রিমান্ডের মাধ্যমে তিন আসামি এবং রহিমসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

?শুনানিতে আসামিরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। বিল্লাল ও কাদির বলেন, তারা রহিমের অবস্থান জানে না। কাদির দাবি করেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না, শুধু ধরে নিয়ে আসা হয়েছে।’ রিয়াজ বলেন, ‘আমি জড়িত নই, একটি ফোনের কারণে আমাকে আটক করা হয়েছে।’

শুনানি শেষে তিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক জিন্নাহর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হটানো ছাড়াও কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার। হত্যার নির্দেশদাতা একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। গ্রেপ্তার চারজনÑ জিন্নাহ, বিল্লাল, আব্দুল কাদির ও রিয়াজ ভাড়াটে কিলার। বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিল্লাল হত্যার চুক্তি করে এবং তার ভাই কাদির ও রহিমকেও এতে যুক্ত করে। মালয়েশিয়া থেকে বিনাশ নামে এক সন্ত্রাসীর মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়। রহিমকে এখনও ধরা যায়নি এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি প্রধান) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে হত্যাকাণ্ডটি ব্যবসায়িক কারণেই সংঘটিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ও অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।

You may also like

Leave a Comment