চীনের কিছু অনলাইন ব্যবহারকারী তাইওয়ানের নেতাদের ‘ভেনেজুয়েলা ধাঁচে’ অভিযান চালিয়ে তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, স্বশাসিত দ্বীপটি দখলের প্রাক্কালে এমন অভিযান চালানো যেতে পারে। তবে বিশ্লেষক, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও গবেষকরা মনে করেন, চীনের আধুনিকায়নের প্রক্রিয়াধীন সেনাবাহিনী এখনও এ ধরনের অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত নয়।
তাইওয়ানের সেনারা অনেক বছর ধরে নিজেদের ‘শীর্ষ নেতাদের নিধন অভিযান’ প্রতিরোধের পরিকল্পনা তৈরি করে আসছেন। দ্বীপটির আকাশ ও রাডার প্রতিরক্ষাও যথেষ্ট শক্তিশালী, তা ছাড়া বিশেষ সংকট মুহূর্তে তাইপের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এগিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
তাইওয়ানের শাসক দল ডেমোক্রেটিক পিপলস পার্টির আইনপ্রণেতা চেন কুয়ান-টিং বলেন, চীনের ‘এমন কোনো অভিযান যদি সমস্যায় পড়ে, তাহলে তা দ্রুত পূর্ণ মাত্রায় সংঘাতে রূপ নেবে, যার রাজনৈতিক ও সামরিক ঝুঁঁকি বেশ চড়া।’
কুয়ান-টিং আরও বলেন, ‘তাইওয়ানের বহুস্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা এবং প্রাথমিক সতর্কীকরণব্যবস্থা যে কোনো ধরনের বিমান হামলা বা বিশেষ অভিযানকে তাইওয়ান প্রণালী অতিক্রম করার সময়ে শনাক্ত করতে সক্ষম। চীনের অভিযান সফল করার বদলে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেবে।’
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অনেকটা নির্বিঘ্নে তুলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব সম্প্রতি নতুন করে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযানের শুরুতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিয়ে ভেনেজুয়েলার আকাশ দখলে নেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। দেড় শতাধিক বোমারু, যুদ্ধ ও নজরদারি বিমান লাতিন আমেরিকার আকাশে প্রবেশ করে। নজরদারি ড্রোন ও স্যাটেলাইট ব্যবহার করে অভিযানের কমান্ডারদের মাঠের যথাযথ তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
কুয়ান-টিংয়ের মতে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) এখনও ‘যৌথ অভিযানের অভিজ্ঞতা, ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের ক্ষমতা এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের বাস্তব অভিজ্ঞায় ঘাটতি রয়ে গেছে।
চীনের লক্ষ্য তাইওয়ানকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও সামরিকভাবে তা কীভাবে করা হতে পারে- বেইজিংয়ের সেই প্রস্তুতি এখনাও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করেন সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তা গবেষক কলিন কোহ। তিনি বলেন, ‘অভিযানে বিভিন্ন বাহিনীর সেনাদের কীভাবে নিখুঁতভাবে সমন্বিত করা যায়, তা বাড়াতে চেষ্টা করছে পিএলএ। কিন্তু কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র এটা যেভাবে গড়ে তুলেছে, সেই তুলনায় চীন শিশু পর্যায়ে রয়েছে।’
